ট্রাম্পের ক্ষমতা কমাতে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে প্রস্তাব পাস

মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ
মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ | ছবি: সংগৃহীত
0

ইরান যুদ্ধ পরিচালনায় ট্রাম্পের ক্ষমতা কমানোর বিষয়ে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে। তবে ট্রাম্পের আশা, কয়েকদিনের মধ্যেই চুক্তি হবে এবং তেহরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম থাকবে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। যদিও ট্রাম্পের এমন দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, চুক্তির বিষয়ে অগ্রগতি নেই, তবে আলোচনার পথ খোলা রয়েছে। এদিকে, হরমুজ প্রণালি সচলে আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু করেছে ইরান। সরকারের অনড় অবস্থানের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে তেহরানের বাসিন্দারা।

ইরান যুদ্ধ নিয়ে অনেকটা বেকায়দায় পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরইমধ্যে তিনি স্বীকারও করেছেন এই যুদ্ধে জড়ানো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বোকামি হয়েছে। তবে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র হামলা না করলে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করে ফেলতো ইরান। এতে গোটা মধ্যপ্রাচ্যের চেহেরাই বদলে যেতো। তবে ইরানের মার্কিন পদক্ষেপ নিয়ে নিজ দেশেও সমালোচনার মুখে পড়েছেন ট্রাম্প।

এবার প্রতিনিধি পরিষদেও বড় ধাক্কা খেলো ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধনীতি। তার যুদ্ধক্ষমতা কমাতে এরইমধ্যে ২১৫ ও ২০৮ ভোটের ব্যবধানে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে। যা এখন উচ্চকক্ষ সিনেটে পাস হলে ইরানে মার্কিন সেনা মোতায়েন অথবা যুদ্ধ পরিচালনায় কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হবে ট্রাম্পকে। নিজ দলের ৪ রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা প্রস্তাবে পক্ষে রায় দিয়েছেন।

এদিকে, দমে যাওয়ার লোক নন ট্রাম্প। লেবানন ও ইসরাইলের সংঘাতকে ইরান যুদ্ধ থেকে আলাদাই রাখছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্পের আশা কয়েকদিনের মধ্যেই একটি চুক্তি হবে এবং ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে মজুত থাকবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ভিন্ন একটি কারণে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছিল। এতে ইরান পাল্টা জবাব দিচ্ছে। তবে এখন একটি ভালো আলোচনা চলছে। বেশ অগ্রগতি হয়েছে। চুক্তি হলে কয়েকদিনের মধ্যেই হয়েই যাবে।

তবে ট্রাম্পের এমন দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন চুক্তির বিষয়ে অগ্রগতি না থাকলেও, আলোচনার পথ খোলা রয়েছে। তবে কোনো ধরনের শত্রুতামূলক আচরণ করলে কঠোর জবাব দেয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তেহরান।

ইরান সরকারের এমন অনড় অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছে দেশটির বাসিন্দারা। তবে সংকট সমাধানে কূটনৈতিক পথকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতায় সংকটের মধ্যেই রয়ে গেছে হরমুজ প্রণালি। জাহাজ চলাচল এখনো স্বাভাবিক হয়নি। হরমুজ প্রণালির মাইন অপসারণে সহায়তার হাত বাড়িয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য।

তবে হরমুজ প্রণালিকে পুরোপুরি নিজদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায় তেহরান। এরইমধ্যে একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। এই দলটি আইনি কাঠামো তৈরিতে সশস্ত্র বাহিনী এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহযোগিতা করবে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হামলায় আবারও উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য। বুধবারের হামলায় কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। হতাহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। হামলার দায় অস্বীকার করে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্যাট্রিয়ট সিস্টেমের ভুলের কারণে এই ধ্বংসযজ্ঞ ঘটেছে।

ইএ