কবরে কয়টি প্রশ্ন করা হবে? কারা দিতে পারবে সঠিক উত্তর

কবরে কয়টি প্রশ্ন করা হবে
কবরে কয়টি প্রশ্ন করা হবে | ছবি: এখন টিভি
0

‘কুল্লু নাফসিন জাইকাতুল মাউত’—অর্থাৎ ‘প্রতিটি প্রাণিকেই মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করতেই হবে’। আর মানুষের মৃত্যুর পর পরকালের প্রথম ধাপই হলো কবর। ইসলামে কবর থেকে শুরু করে কেয়ামতের পুনরুত্থান পর্যন্ত সময়কালকে আলমে বারজাখ (Alame Barzakh) বা অন্তরালবর্তী জীবন বলা হয়। এই সময়ের ভয়াবহতা ও আজাব থেকে যে ব্যক্তি মুক্তি পাবে, তার জন্য পরবর্তী হাশর ও মিজানের ধাপগুলো সহজ হয়ে যাবে।

বিখ্যাত সাহাবি হজরত উসমান (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "কবর হচ্ছে আখিরাতের প্রথম ধাপ। যে এর আজাব থেকে মুক্তি পাবে, তার জন্য পরবর্তী ধাপগুলো সহজ হয়ে যাবে। আর যে মুক্তি পাবে না, তার জন্য পরবর্তী ধাপগুলো আরও কঠিন হবে।" (সুনানে তিরমিজি: ২৩০৮)

ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী, দাফনের পর প্রতিটি মানুষকে কবরের তিনটি প্রশ্ন (Three Questions of Grave) করা হবে। এই প্রশ্নগুলোর সঠিক উত্তর দেওয়ার ওপরই নির্ভর করছে পরকালের শান্তি।

আরও পড়ুন:

কবরে মানুষকে যে ৩টি প্রশ্ন করা হবে (What Questions Will Be Asked in the Grave)

ফেরেশতা মুনকার ও নাকির কবরে এসে মৃত ব্যক্তিকে তিনটি প্রশ্ন জিজ্ঞেস করবেন। মানুষের দুনিয়াবি আমল ও বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে এই কবরের সওয়াল জওয়াব (Munkar Nakir Questions in Grave) অনুষ্ঠিত হবে। প্রশ্নগুলো হলো:

১. তোমার রব কে? (Who is your Lord? / Mar Rabbuka?)

কবরের প্রথম প্রশ্নটি হবে তাওহিদ বা আল্লাহর একত্ববাদ নিয়ে। যারা দুনিয়ায় আল্লাহর বিধান তথা 'তাওহিদুর রুবুবিয়্যা' (প্রতিপালনে একত্ববাদ) মেনে চলেছে, কেবল তারাই বলতে পারবে— "আমার রব আল্লাহ"। কিন্তু যারা রবের বিষয়ে উদাসীন ছিল কিংবা দুনিয়ার কোনো সাধারণ মানুষকে রবের আসনে বসিয়েছিল (যেমনটি সুরা তাওবার ৩১ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে), তারা সেদিন বলবে, ‘লা আদরি’ অর্থাৎ "আমি কিছুই জানি না।"

২. তোমার দীন তথা জীবনব্যবস্থা কী? (What is your Religion? / Ma Deenuka?)

দ্বিতীয় প্রশ্নটি হবে মানুষের জীবনবিধান নিয়ে। যারা দুনিয়াতে পরিপূর্ণভাবে ইসলামকে আঁকড়ে ধরেছিল এবং ইসলামী অনুশাসন মেনে জীবন পরিচালনা করেছে, তারা সহজেই উত্তর দিতে পারবে— "আমার দীন ইসলাম"। তবে যারা মানবরচিত বিধানকে অগ্রাধিকার দিয়েছে, তারা আফসোস করে বলবে, ‘লা আদরি’ (আমি কিছুই জানি না)। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন:

"যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কিছু জীবনব্যবস্থা হিসেবে গ্রহণ করবে, তা কখনও কবুল করা হবে না, বরং সে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।" (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ৮৫)

আরও পড়ুন:

৩. তোমাদের কাছে যে লোকটিকে পাঠানো হয়েছে তিনি কে? (Who is this prophet sent to you? / Man Nabiyyuka?)

কবরের সর্বশেষ ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি হবে রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরিচয় নিয়ে। সেদিন নবীজির প্রতিচ্ছবি দেখিয়ে জিজ্ঞেস করা হবে, এই আদর্শ পুরুষটি কে ছিলেন? যারা দুনিয়ায় সুন্নাহর আলোয় জীবন গড়েছে এবং নবীজির সিরাত ও সুন্নাহ (Seerat and Sunnah of Prophet) অনুসরণ করেছে, কেবল তারাই বলতে পারবে— "তিনি আল্লাহর রাসুল মুহাম্মদ (সা.)"। যারা অন্য কারো আদর্শে জীবন চালিয়েছে, তারা সেদিন ব্যর্থ হবে।

সঠিক উত্তরদাতার পুরস্কার: কবরের চিরস্থায়ী শান্তি (Rewards for Right Answers in Grave)

যেসব মুমিন বান্দা সফলভাবে এই তিন প্রশ্নের যথাযথ জবাব দিতে পারবে, তাদের জন্য রয়েছে মহা পুরস্কার। নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তখন আসমান থেকে একজন আহবানকারী (আল্লাহ তাআলা) বলবেন: "আমার বান্দা ঠিক বলেছে। সুতরাং তার জন্য একটি জান্নাতের বিছানা বিছিয়ে দাও এবং তাকে জান্নাতের পোশাক পরিয়ে দাও। এছাড়া তার জন্য জান্নাতের দিকে একটি দরজা খুলে দাও।"

তখন জান্নাত থেকে সুশীতল বাতাস ও সুখ-শান্তি আসতে থাকবে এবং তার কবরকে দৃষ্টির সীমা পর্যন্ত প্রশস্ত করে দেওয়া হবে।

শুধু তাই নয়, বুখারি ও মুসলিমের বর্ণনা অনুযায়ী, তখন মৃত ব্যক্তির সামনে এক সুন্দর চেহারা বিশিষ্ট সুবেশী ও সুগন্ধিযুক্ত ব্যক্তি এসে উপস্থিত হবেন। মৃত ব্যক্তি তাকে জিজ্ঞেস করবে, "তুমি কে? তোমার চেহারা এত সুন্দর যে, কল্যাণের বার্তা বহন করে!" তখন সে উত্তর দেবে "আমি তোমার দুনিয়ার সৎ আমল (যেমন: নামাজ, রোজা, কোরআন তিলাওয়াত ও সদকা)" (মুসনাদে আহমাদ, মিশকাত: ১৫৪২)।

তাই কবরের কঠিন আজাব থেকে বাঁচতে এবং কবরের প্রশ্নের সঠিক উত্তর (Correct Answers to Grave Questions) দিতে হলে এখন থেকেই বাস্তব জীবনে কোরআন ও সুন্নাহর পূর্ণ প্রতিফলন ঘটানো জরুরি।

আরও পড়ুন:

এসআর