‘ব্যাক টু ব্যাক’ ইউরোপ সেরার মুকুট পিএসজির; রিয়ালের রেকর্ডে ভাগ

ট্রফি নিয়ে উল্লাস করছে পিএসজি
ট্রফি নিয়ে উল্লাস করছে পিএসজি | ছবি: সংগৃহীত
0

চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে টাইব্রেকারে আর্সেনালকে ৪-৩ গোলে হারিয়েছে পিএসজি। রিয়াল মাদ্রিদের পর টানা দুই চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা জেতার রেকর্ড গড়ল ফরাসি ক্লাবটি। অন্যদিকে ফের আরেকবার ইউরোপীয় ক্লাব সেরার মুকুট জয়ের খুব কাছ থেকে ফিরতে হলো আর্সেনালকে।

হোক কলরব, ফুলগুলো সব লাল না হয়ে নীল হলো ক্যান! চাইলে বিখ্যাত এই গানটির সুরে সুর মেলাতে পারেন আর্সেনাল ভক্তরাও। টানা দুই চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের পর পুরো দুনিয়া যখন বুধ পিএসজির ক্লাব ফুটবলের নয়া ফরাসি বিপ্লবে, গানার্স শিবির তখন স্তব্ধ, বিধ্বস্তপ্রায়।

অথচ প্রথমবারের মতো ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের ঐ মুকুটটি ছুঁতে চেষ্টার কমতি রাখেনি আর্সেনাল। পিএসজির মহাপরাক্রমশালী আক্রমণ বিভাগের সামনে দুর্গ হয়ে দাঁড়িয়েছিলো আর্তেতার শিষ্যরা। যদিও শেষ রক্ষা হয়নি, ইংলিশ জায়ান্টদের কাঁদিয়ে হেসেছে ডেম্বেলে-দুয়েরা।

পুরো ম্যাচে পিএসজির গোলমুখে মাত্র একটি শটই নিতে পেরেছে আর্সেনাল। ম্যাচের মাত্র ৬ মিনিটেই সেটিকে গোলে রূপান্তর করে রূপকথার গল্পের প্রথমাংশ লিখেও ফেলেছিলেন হয়তো কাই হ্যাভার্টজ। ২০২১ চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে তিনিই আরেক হেভিওয়েট দল ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে চেলসির হয়ে করেছিলেন জয়সূচক গোল। পিএসজির বিপক্ষে লিড নিয়ে ধীরে ধীরে রক্ষণশীল হয়ে পড়ে আর্সেনাল। ম্যাচে ৭২ শতাংশ সময় বল পায়ে রেখেছে পিএসজি। ১৯ শটস থেকে শুরু করে পাস, পাসিং একিউরেসি, কর্নার সবখানেই যোজন যোজন এগিয়ে ছিলো পিএসজি। তবে ডেম্বেলে-দুয়ে কিংবা ভিতিনহা-রুয়িজদের একের পর এক বীর দর্পে উত্তরে যায় সালিবা-গ্যাব্রিয়েলরা। আপাতদৃষ্টিতে একঘেয়ে ডিফেন্সিভ ফুটবল মনে হলেও পিএসজির আক্রমণভাগকে ঠিকই ভুগিয়েছে আর্সেনাল।

আরও পড়ুন:

ডেম্বেলের পেনাল্টি থেকে সমতায় ফেরা বাদে পুরো ম্যাচে রক্ষণে মনযোগী আর্সেনাল ছিলো রক সলিড। কাভারতস্খেলিয়া-বার্কোলারা চেষ্টা করেছেন বটে রায়া-রাইসরা তাদের প্রতিহত করেছে বারবার। এমনকি নির্ধারিত সময়ের শেষ বাজি বাজার আগে রায়ার ঝাপিয়ে পড়া সেভে ১০ বছর পর অতিরিক্ত সময়ে মাঠে গড়িয়েছে চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল। যেখানে ১০২ মিনিটে নুনো মেন্দেসের কথা ফাউলটা কেন পেনাল্টি হবে না এই নিয়ে চলতে পারে দীর্ঘ আলোচনা-সমালোচনা। অন্যদিকে আক্রমণের বন্যা বইয়ে দেয়া পিএসজি টাইব্রেকারে যাওয়ার আগ পর্যন্ত চেষ্টা করেই গেছে একটি গোলের জন্য। তবে তাদের কাজটা শুরুতেই সহজ করে দেন আর্সেনাল নাম্বার টেন এবেরেচি এজে। তবে তার পেনাল্টি মিস হলেও মেন্ডেসের ফিরতি শট ঠেকিয়ে আবারও গল্পে সুপারম্যান হিসেবে হাজির হন গোলরক্ষক রায়া।

কিন্তু ভাগ্য আর কতই বা সহয়তা করতে পারতো পিএসজিকে! গ্যাব্রিয়েলের পেনাল্টি মিসে নিশ্চিত হয়ে যায় আর্সেনালের আরও একটি হৃদয় ভাঙার গল্প। ২০০৬ এর পর আরও একবার চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল থেকে ফিরতে হয় খালি হাতে।অন্যদিকে যোগ্য দল হিসেবে শিরোপা উঁচিয়ে ধরে লুইস এনরিকের দল। ট্রেবল এর আগে দুইবার জিতেছেন এই স্পানিশ কোচ। এবার তার লক্ষ্যে হ্যাট্রিক চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়, এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এফএস