অট্টালিকার নগরী ঢাকা, জ্যৈষ্ঠের তপ্ত দুপুরে আরও রুদ্র, রুক্ষ। মহানগরের এই পিচঢালা ক্যানভাসে এক পশলা রঙের আগমন প্রাণপ্রকৃতিতে। আয়োজন বর্ণিল, নয়নাভিরাম।
তীব্র দাবদাহ উপেক্ষা করে ঢাকার রাজপথে রক্তিম উৎসব। যার পরশমণির ছোঁয়ায় মুছে যায় নাগরিক সব ক্লান্তি। মুগ্ধ-ক্লান্ত শালিকের আশ্রয় মেলে এই ছাউনিতে, আর ঝরে পড়া পাপড়ি জলের বুকে তৈরি করে নতুন মানচিত্র। ছুটন্ত এ জনপদে দীর্ঘশ্বাস আর অবাধ্য দ্রোহে হলুদ-লালের গোপন মিতালী।
কৃষ্ণচূড়ার লাল ডালপালায় জড়িয়ে থাকা সোনালু গল্প বুনে যায় অলস দুপুরে। হলদে সুতোর মায়ায় লাল কুঁড়ির ওপর আলতো করে টেনে দেয় কনকচূড়ার লাজুক ঘোমটা।
এ রূপ আরও খোলসা হয় একটু এগোলে। সেখানে চোখের ধাঁধায় রাধাচূড়ার লাল ও হলুদ রঙের বাহার। চেনা জুঁইয়ের মিষ্টি ঘ্রাণের চেয়েও এই রূপে কেবলি মুগ্ধতা।
আরও পড়ুন:
মুগ্ধতা ছড়ানোর পাল্লায় সামিল অলকানন্দাও। হলুদ অবয়বে ধারণ করে এক চিলতে রোদ্দুরকে। একাত্মতা জানিয়ে ফ্রেমের খোরাক দেয় জারুলের বেগুনি মায়া। গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহে জারুল যেন নাগরিক রুক্ষতার বিপ্রতীপ।
কোমল আঁচড় আর আঁকিবুঁকিতেই ধরা পড়ে আদিম রহস্য- নাগলিঙ্গম। সৌর নিংড়ানো আভায় সেজে ওঠায় কোনো কার্পণ্য নেই তার। আদিম অরণ্যের আদিখ্যেতায় সৌন্দর্যের বিচ্ছুরণ।
কংক্রিটের আচ্ছাদনে নগরী তার রূপ ঐশ্বর্যে মলিন হলেও ঢাকার আদি রূপের দেখা মিলে কখনো কখনো এক চিলতে বিল-ঝিল প্রকৃতিতে। উঠে আসে সবুজাভ সংগ্রাম। আর এ সংগ্রামেই হয়তো বেঁচে থাকার সঞ্জীবনী সুধায় আপ্লুত নগরবাসী ।




