পোপ লিও চতুর্দশের কাছে পরিচয়পত্র পেশ বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূতের

বাংলাদেশ ও ভ্যাটিকান সিটির পতাকা
বাংলাদেশ ও ভ্যাটিকান সিটির পতাকা | ছবি: সংগৃহীত
0

হলি সি-এ সমবর্তী দায়িত্বে নিয়োজিত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহান ভ্যাটিকান সিটি’র সেক্রেটারিয়েট অব স্টেটের অ্যাপোস্টলিক প্যালেসে আয়োজিত এক গাম্ভীর্যপূর্ণ অনুষ্ঠানে পোপ লিও চতুর্দশের কাছে নিজের পরিচয়পত্র পেশ করেছেন। গত ২১ মে তিনি এ পরিচয়পত্র পেশ করেন।

গতকাল (শুক্রবার, ২২ মে) জেনেভায় বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় যে অনুষ্ঠানটি হলি সি কর্তৃক যথাযথ রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক রাষ্ট্রাচার অনুযায়ীই অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন ইকোনমিক মিনিস্টার এম. জহিরুল কাইয়ুম, মিশনের কাউন্সেলর সবুজ আহমেদ। পরিচয়পত্র পেশের পর পোপ রাষ্ট্রদূত ও তাঁর প্রতিনিধিদলের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

পরিচয়পত্র পেশের আগে রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহান সেক্রেটারি অব স্টেট কার্ডিনাল পিয়েত্রো পারোলিন, সাবস্টিটিউট অব দ্য সেক্রেটারিয়েট অব স্টেট আর্চবিশপ পাওলো রুদেল্লি, সেক্রেটারি ফর রিলেশনস উইথ স্টেটস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশনস আর্চবিশপ পল রিচার্ড গ্যালাঘার এবং হলি সি-এর রাষ্ট্রাচার প্রধান জাভিয়ের ফার্নান্দেজ-এর সঙ্গে বৈঠক করেন।

বৈঠকসমূহে রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ ও হলি সি-এর মধ্যকার সম্পর্কের প্রতি বাংলাদেশের গভীর গুরুত্বারোপের বিষয়টি তুলে ধরেন।

তিনি ২০১৭ সালে পোপ ফ্রান্সিস এবং ১৯৮৬ সালে পোপ জন দ্বিতীয় পল-এর বাংলাদেশ সফরের কথা স্মরণ এবং উভয় সফরকে বাংলাদেশ ও হলি সি-এর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেন।

রাষ্ট্রদূত সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অবিচল অঙ্গীকারের বিষয়টিও তুলে ধরেন। তিনি বৈশ্বিক শান্তি, জলবায়ু পরিবর্তন রোধ ও মানবিক কার্যক্রমে, বিশেষ করে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের প্রতি হলি সি-এর অব্যাহত সমর্থনের প্রশংসা করেন এবং বিশ্বব্যাপী শান্তি, ন্যায়বিচার অভিবাসী ও অসহায় জনগোষ্ঠীর প্রতি মানবিক আচরণ নিশ্চিতকরণে তাঁদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

দ্বিপাক্ষিক বৈঠকসমূহে হলি সি-এর বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বাংলাদেশ ও হলি সি-এর মধ্যকার সম্পৃক্ততা নিয়মিত সফর ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে আরও জোরদার হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। এসময়, তারা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রতি বাংলাদেশের মানবিক সহায়তারও প্রশংসা করেন।

এই সফরকালে অনুষ্ঠিত ধারাবাহিক বৈঠকসমূহ বাংলাদেশ ও হলি সি-এর মধ্যকার পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার অভিন্ন অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটিয়েছে।—বাসস

এএইচ