যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যা: আসামির মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিতে নিজেই লড়ছেন স্টেট অ্যাটর্নি

নিহত দুই শিক্ষার্থী
নিহত দুই শিক্ষার্থী | ছবি: এখন টিভি
0

ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) দুই বাংলাদেশি ডক্টরাল শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টি ও জামিল লিমনকে নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত হিশাম আবু গারবিয়াহর আনুষ্ঠানিক চার্জ গঠন হয়েছে। আজ (সোমবার, ১৮ মে) ট্যাম্পার একটি আদালতে চার্জ গঠিত হয়েছে।

এ জোড়া খুনের মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিতে ফ্লোরিডার স্টেট অ্যাটর্নি সুজি লোপেজ নিজেই আদালতে সরকারের পক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনা করবেন, যা মার্কিন বিচার ব্যবস্থায় একটি বিরল ঘটনা।

আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত ও জোরালো করতে নিহত দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর পৃথক দুই হত্যাকাণ্ডের মামলাকে একত্রিত করে একটি একক ট্রায়ালের আওতায় আনা হয়েছে। ক্যাপিটাল সেন্টেন্সিং বা মৃত্যুদণ্ডযোগ্য এ মামলায় অভিযুক্ত আবু গারবিয়াহর বিরুদ্ধে মোট আটটি সুনির্দিষ্ট চার্জ গঠন করা হয়েছে। স্টেট অ্যাটর্নি সুজি লোপেজ ব্যক্তিগতভাবে এ প্রসিকিউশনের দায়িত্ব নেয়ায় স্পষ্ট যে, ফ্লোরিডার বিচার বিভাগ এ মামলাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।

তদন্তকারীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, এ হত্যাকাণ্ডটি ছিল অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথার ও সুপরিকল্পিত। আসামির ডিজিটাল ডিভাইস জব্দ করে গোয়েন্দারা দেখতে পান, জোড়া খুনের পর মানবদেহ কীভাবে নিশ্চিহ্ন বা অপসারণ করা যায়, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট আইডিয়া পেতে আসামি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তি চ্যাটজিপিটির সহায়তা নিয়েছিল।

স্টেট অ্যাটর্নি সুজি লোপেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আসামির মনে কী পরিকল্পনা চলছিল, তা চ্যাটজিপিটিতে করা তার প্রশ্নগুলো থেকেই পরিষ্কার ফুটে উঠেছে। সে তার প্রশ্নগুলোর উত্তরও পেয়েছিল, যা প্রমাণ করে এ জঘন্য অপরাধের পেছনে কতটা দীর্ঘ পূর্বপরিকল্পনা কাজ করেছে।’

প্রসিকিউটরদের দাখিল করা নোটিশে এ জোড়া খুনকে ‘অত্যন্ত জঘন্য, নৃশংস ও নিষ্ঠুর’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি আসামি আবু গারবিয়াহর অতীতেও একটি সহিংস অপরাধের রেকর্ড রয়েছে বলে জানানো হয়।

তবে দুই মেধাবী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে কেন এমন নির্মমভাবে টার্গেট করা হলো, তার সুনির্দিষ্ট মোটিফ বা কারণ এখনো উন্মোচন করতে পারেনি পুলিশ। ফ্লোরিডার ২০২৩ সালের সংশোধিত আইন অনুযায়ী, ১২ জন জুরির মধ্যে ন্যূনতম ৮ জন সদস্য মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে ভোট দিলেই বিচারক এ সাজা কার্যকর করতে পারবেন। রাষ্ট্রপক্ষ এ আইনি সুযোগ ব্যবহার করেই আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।

এএইচ