জানা যায়, নিহত ইমা আক্তারের সঙ্গে প্রায় তিন বছর আগে পারিবারিকভাবে রাজিব মিয়ার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ইউসুফ নামে দুই বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
ইমার স্বামী রাজিব মিয়া, শাশুড়ি রোকেয়া বেগম এবং দেবর রাজু সম্প্রতি সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সানারপাড় লন্ডন মার্কেট এলাকার শুকুর আলী ভূইয়া মঞ্জিলে ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন।
নিহতের ভাই মোঃ আজাদ মিয়া অভিযোগ করেন, গত ১৫ মে রাত আনুমানিক ৯টার দিকে তার বোনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে দেবর রাজু ফোন করে জানান, ইমা আক্তার মারা গেছেন এবং তার মরদেহ বাসায় রাখা আছে। খবর পেয়ে পরদিন সকালে তিনি ময়মনসিংহের ফুলপুরে বোনের শ্বশুরবাড়িতে যান। সেখানে বিবাদীদের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তিনি ফুলপুর থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন।
পরে ফুলপুর থানার এসআই খাইরুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করেন। সুরতহাল প্রতিবেদনে ইমা আক্তারের মাথার পেছনে ফোলা, বাম হাতের কনুই এবং বাম পায়ের হাঁটুর ওপর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ৯ মে ইমা আক্তার বেড়ানোর উদ্দেশ্যে সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় এলাকায় শ্বশুরবাড়ির ভাড়া বাসায় আসেন। পরে ১৫ মে বিকেলে স্বামী রাজিব মিয়া তাকে গ্রামের বাড়িতে নেওয়ার কথা বললে পারিবারিক বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়। একপর্যায়ে স্বামীসহ পরিবারের সদস্যরা ইমাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে গুরুতর আহত হয়ে তিনি মারা যান বলে পরিবারের দাবি।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই মো. আজাদ মিয়া সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় স্বামী রাজিব মিয়া, শাশুড়ি রোকেয়া বেগম ও দেবর রাজুর বিরুদ্ধে হত্যা অভিযোগে এজাহার দায়ের করেছেন।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পরিদর্শক তদন্ত মিজানুর রহমান জানান, এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার এজাহারভুক্ত আসামি নিহতের শাশুড়ি রোকেয়া বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।





