ভেনেজুয়েলা ও ইরান অভিযান শেষে বন্দরে মার্কিন রণতরি ‘জেরাল্ড আর ফোর্ড’

ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ডের ফ্লাইট ডেকের ওপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছে একটি এফ/এ-১৮ই সুপার হর্নেট
ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ডের ফ্লাইট ডেকের ওপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছে একটি এফ/এ-১৮ই সুপার হর্নেট | ছবি: সংগৃহীত
0

ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তার এবং ইরান যুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণসহ প্রায় এক বছরের দীর্ঘ মিশন শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরছে দেশটির সর্বাধুনিক ও বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’। আজ (শনিবার, ১৬ মে) ভার্জিনিয়া বন্দরে নোঙর করার মাধ্যমে শেষ হচ্ছে ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর কোনো মার্কিন রণতরির দীর্ঘতম এই মোতায়েন। সিএনএনের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈশ্বিক সামরিক লক্ষ্য অর্জনে গত এক বছর এই রণতরি ছিল কেন্দ্রবিন্দুতে। নাবিকদের পরিবারের জন্য এটি দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। আমিনি ওসিয়াস নামের এক অভিভাবক জানান, তার মেয়ে এই রণতরিতে এভিয়েশন ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে কাজ করছেন। তিনি সিএনএনকে বলেন, ‘এখন আমি স্বস্তির নিশ্বাস নিতে পারবো এবং স্বাভাবিকভাবে ঘুমাতে পারবো।’

তবে সমুদ্রযাত্রার এই পথ মোটেও সহজ ছিল না। গত মার্চে রণতরিটির লন্ড্রি এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যা নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং পুনরায় আগুন ছড়ানো ঠেকাতে ক্রুদের প্রায় ৩০ ঘণ্টা সময় লেগেছিল। এই ঘটনায় কেউ গুরুতর আহত না হলেও প্রায় ৬০০ নাবিক তাদের থাকার জায়গা হারান এবং দীর্ঘদিন রণতরিতে লন্ড্রি সেবা বন্ধ ছিল। এছাড়া অত্যাধুনিক এই জাহাজে টয়লেট ও ড্রেনেজ সিস্টেমেও বারবার সমস্যা দেখা দেয়, যা সারাই করতে বন্দর পরিদর্শনের প্রয়োজন হয়েছিল।

প্রায় ১ হাজার ৩০০ কোটি ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই রণতরিটিকে ইরান ও ভেনেজুয়েলা অভিযানে অপরিহার্য বলে মনে করেন সাবেক ও বর্তমান সামরিক কর্মকর্তারা। ভেনেজুয়েলায় মাদুরোকে ধরার অভিযানে এবং ইরান যুদ্ধে এই রণতরি থেকে একের পর এক যুদ্ধবিমান উৎক্ষেপণ করা হয়েছে।

২৬ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন সাবেক নৌ-কর্মকর্তা ব্রেন্ট স্যাডলার জানান, ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডের ইলেকট্রনিক ক্যাটাল্ট সিস্টেমের কারণে এটি ক্ষুদ্র ড্রোন থেকে শুরু করে বড় বিমান—সবই উৎক্ষেপণ করতে সক্ষম। যুক্তরাষ্ট্রের অন্য ১০টি রণতরির এই বিশেষ ক্ষমতা নেই। গত বছরের জুনে ভার্জিনিয়া থেকে যাত্রা শুরু করে এটি আটলান্টিক ও ভূমধ্যসাগর হয়ে নরওয়ে গিয়েছিল। এরপর জানুয়ারিতে মাদুরোকে ধরার অভিযানে অংশ নিতে এটি ক্যারিবীয় অঞ্চলে পৌঁছায়। সেখান থেকে দ্রুত মধ্যপ্রাচ্যে গিয়ে ইরান যুদ্ধে অংশ নিয়ে চলতি মাসে আবারও আটলান্টিকে প্রবেশ করে।

এএম