ওয়াশিংটনের ওয়্যার মেমোরিয়ালের ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও গেমের বুথে দেখা যাচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি। যেখানে ট্রাম্পের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে খেলোয়াড়রা ডায়েট কোকের অর্ডার দেয়া থেকে শুরু করে ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করার মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
চলতি মাসে ওয়াশিংটন ডিসির ডিসট্রিক্ট অফ কলম্বিয়া ওয়্যার মেমোরিয়ালে এপিক ফিউরিয়াস নামের মুদ্রা-চালিত এমন একটি ভিডিও গেম ইন্সটলেশনের বুথ স্থাপন করা হয়। বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ আর রাজনৈতিক নেতাদের কথার ফুলঝুরি নিয়ে ব্যাঙ্গ করে গেমটি তৈরি করা হয়েছে। একটি বেনামী শিল্প গোষ্ঠীর তৈরি করা গেমটি এখন অনলাইনেও পাওয়া যাচ্ছে।
স্থানীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘হ্যাঁ, আমার মনে হয়, এর মূল উদ্দেশ্য বড় কোনো কিছুর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা, তাই না? তারা যে এটা ডিসি-র একটি যুদ্ধ স্মারকে করছে। আমার মনে হয়, এটি ইচ্ছাকৃতভাবেই করা হয়েছে। এটা সত্যিই খুব চতুর একটি কাজ। যারা এভাবে চিন্তা করতে পারে আমি তাদের সত্যিই প্রশংসা করি।’
আরও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনান্ড ট্রাম্পসহ কিছু ছবি ব্যবহার করে অপারেশন এপিক ফিউরিয়াস গেমটিকে একটি ব্যঙ্গাত্মক শিল্পকর্মে পরিণত করা হয়েছে। এছাড়া গেমটির নাম রাখা হয়েছে ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক অভিযান-অপারেশন এপিক ফিউরির প্যারোডি করে।
গেমটিতে বেশকিছু অভিনব উপায়ে ট্রাম্প প্রশাসনকে উপহাস করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে- ডিইআই এবং পোপ-এর বিরুদ্ধে টুইট যুদ্ধ এবং কম পানি প্রবাহের শাওয়ার হেডের হুমকি দেয়া।
গেমটিতে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘এটি খুবই প্রাসঙ্গিক, কারণ এখন যা কিছু ঘটছে, তার প্রায় সবকিছুই সোশ্যাল মিডিয়াতে হচ্ছে। তাই এরকম একটা ডিজিটাল জিনিস থাকা, যেটাকে ঠিক সিরিয়াস বলা যায় না কিন্তু আসলে এটা অত্যন্ত সিরিয়াস। আমার এটা ভালো লেগেছে। গেমটিতে অবশ্যই কিছু স্পর্শকাতর বিষয় আছে, কিন্তু জানেনই তো, সবই বাস্তবতা। তাই এটা এক ধরনের কঠিন খেলা।’
এদিকে গেমটি নিয়ে খেলোয়াড় ও দর্শকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। চলমান যুদ্ধ ও রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে একটি ঐতিহাসিক স্থাপনায় এমন একটি আয়োজনকে কেউ কেউ উস্কানিদায়ক হিসেবে দেখছেন। আবার কেউ এটির প্রশংসা করছেন। তাদের মতে, সমসাময়িক রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে এভাবে গঠনমূলক উপায়ে আলোচনা করতে পারা মন্দ নয়।
কিছুদিন আগেই ট্রাম্পকে কটাক্ষ করে সোনালি রঙের টয়লেট তৈরি করা হয় এই ওয়াশিংটন ডিসিতেই। ট্রাম্পের অতিবিলাসবহুল জীবনধারা ও নীতিকে ব্যঙ্গ করেই মূলত এ উদ্যোগ নেয়া হয়।
