জেলার সবচেয়ে বড় খামার সদর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামে। যেখানে আছে ১০৬টি গরু। যার অধিকাংশ শাহীওয়াল। প্রতিটি গরুর দাম দেড় লাখ থেকে ৪ লাখ টাকা। গরু মোটাতাজাকরণে দানাদার খাবারের দাম নিয়ন্ত্রণে না থাকায় খরচ বাড়বে। এতে পশুর ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা।
সত্ত্বাধিকারী একরামুল হাসান বলেন, ‘সমস্যাটা হলো এখানে আমাদের হলো খাবার দানাদারে। খাবার দানাদারের বাজার নিয়ন্ত্রণ নেই। বাজার নিয়ন্ত্রণ না থাকার জন্য আমাদের বেকায়দায় পড়ে যাওয়া লাগে।
প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজাকরণে নিতে হয় বাড়তি যত্ন। তিনবেলা নিয়ম করে আটা, ভুষি, খৈল, খড় ও ঘাস খাবার দিতে হচ্ছে।
খামারিরা বলছেন, গত ৩ মাসের ব্যবধানে দানাদার খাবারের দাম বস্তা প্রতি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
আরও পড়ুন:
খামারিরা জানান, খুদের দাম ছিল ১৪০০ টাকা। সেই খুদ এখন হয়েছে ১৫০০-১৬০০ টাকা। এতে খামারিরা বিপাকে পড়ে গেছে। দেড় লাখ থেকে শুরু করে চার লাখ টাকা পর্যন্ত গরু খামারে।
প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে লালন-পালনে খামারিদের খরচ কমাতে প্রাণিসম্পদ থেকে বিভিন্ন পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এ পদ্ধতিতে মাংস বৃদ্ধির পাশাপাশি পশু সুস্থ থাকার কারণে ক্রেতাদের কাছে আগ্রহ বাড়বে। তবে খাবারের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকলে খামারি লাভবান হবেন বলে জানান প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা।
নওগাঁ সদরের উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘যুদ্ধ চলার কারণে আগের মতো আমদানিটা আসলে ওইভাবে সম্ভব হচ্ছে না, যার কারণে খাদ্যের খরচটা অনেক বেশি।’
নওগাঁ জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের জেলা ট্রেনিং অফিসার ডা. গৌরাঙ্গ কুমার তালুকদার বলেন, ‘দানাদার জাতীয় খাদ্যের নির্ভরতা কমিয়ে ঘাস জাতীয় খাদ্য, সাইলেজ জাতীয় খাদ্য—এই জাতীয় খাদ্যে যদি গবাদি পশুকে অভ্যস্ত করতে পারি, তাহলে আমাদের গবাদি পশুর খাদ্য খরচ অর্ধেক কমে যাবে। তার সাথে সাথে গবাদি পশুগুলোর স্বাস্থ্য ভালো থাকবে।’
প্রাণিসম্পদ অফিসের তথ্য মতে, জেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৩৯ হাজার খামার রয়েছে। যেখানে প্রায় ৮ লাখ গবাদিপশু রয়েছে। এরমধ্যে জেলার চাহিদা ৩ লাখ ৮৭ হাজার। বাকি গবাদিপশু দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হবে।




