শুভেন্দু-বিজয়ের ছেড়ে দেয়া আসনের কী হবে?

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয়
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয় | ছবি: সংগ্রহীত
0

সদ্য শেষ হওয়া বিধানসভা নির্বাচনে জোড়া আসনে জয় পেয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয়। নিয়ম অনুযায়ী দুজনকেই একটি করে আসন ছেড়ে দিতে হয়েছে। শুভেন্দু কলকাতার হাই-প্রোফাইল কেন্দ্র ভবানীপুর নিজের কাছে রেখে, ছেড়ে দিয়েছেন নন্দীগ্রাম। অন্যদিকে তামিলনাড়ুতে সদ্য আস্থাভোটে জয়ী বিজয়ও নিজের জেতা দুটি আসনের একটি ছেড়ে দিয়েছেন। এখন রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা, হাইভোল্টেজ এই দুই শূন্য আসনে উপনির্বাচনে কারা প্রার্থী হচ্ছেন?

আজ (বুধবার, ১৩ মে) বিধানসভায় শপথ নেয়ার পর শুভেন্দু অধিকারী জানান, তিনি ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবেই থাকছেন। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে এই আসনে তিনি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৫ হাজার ১০৫ ভোটে হারিয়েছেন। আর নিজের শক্ত ঘাঁটি নন্দীগ্রামে তিনি জয় পেয়েছিলেন ৯ হাজার ৬৬৫ ভোটে। নন্দীগ্রাম ছেড়ে দিলেও সেখানকার মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

নন্দীগ্রামে কে প্রার্থী হতে পারেন, তার একটি প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত দিয়েছেন শুভেন্দু নিজেই। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘উপনির্বাচনে নন্দীগ্রাম থেকে অন্য কেউ বিধায়ক নির্বাচিত হবেন। তবে আগামী পাঁচ বছর আমি সেখানকার মানুষকে আমার অনুপস্থিতি বুঝতে দেব না। রাজ্যের পাশাপাশি নন্দীগ্রামের মানুষের কাছে দেয়া উন্নয়নের সব প্রতিশ্রুতি আমি পূরণ করবো।’

২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত নন্দীগ্রামে তৃণমূল বিধায়ক ফিরোজা বিবিকে বাইরে থেকে সহায়তা করার কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, এবারও তিনি একই ভূমিকা পালন করবেন। বিশ্লেষকদের ধারণা, উপনির্বাচনে এই আসনে বিজেপি এমন কাউকেই প্রার্থী করবে, যিনি শুভেন্দুর অত্যন্ত বিশ্বস্ত এবং যার মাধ্যমে তিনি বাইরে থেকেই ওই এলাকার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবেন।

অন্যদিকে, তামিলনাড়ুতে দ্রাবিড় রাজনীতির দীর্ঘদিনের মেরুকরণ ভেঙে প্রথমবার জোট সরকার গড়েছেন অভিনেতা থেকে রাজনীতিক হওয়া জোসেফ বিজয়। বুধবার বিধানসভায় ১৪৪ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে তার দল তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে) অনায়াসেই আস্থাভোটে জয়ী হয়েছে। বিজয় নির্বাচনে দুটি আসন থেকে জিতলেও মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর একটি ছেড়ে দিয়েছেন। ফলে তার ছেড়ে দেয়া আসনটিতে এখন উপনির্বাচন হবে।

বিধানসভায় কংগ্রেস, বামপন্থি দল, ভিসিকে, আইইউএমএল এবং প্রধান বিরোধীদল এআইএডিএমকের একটি বিদ্রোহী অংশের সমর্থন পেয়েছেন বিজয়। সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করায় আসন্ন উপনির্বাচনে তার দলের প্রার্থীর পালে বাড়তি হাওয়া থাকবে। ধারণা করা হচ্ছে, আসনটি নিজেদের দখলে রাখতে টিভিকে এমন কোনো স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা বা বিজয়ের ঘনিষ্ঠ কাউকে মনোনয়ন দেবে, যিনি এই জোটের ভোটগুলো ধরে রাখতে পারবেন।

তবে বিজয়ের জয়রথ থামাতে ছেড়ে দেয়া এই আসনটিতে মরিয়া হয়ে লড়বে বিরোধীদলগুলো। বিশেষ করে নির্বাচনে মাত্র ৫৯ আসন পাওয়া ডিএমকে এবং অন্তর্দ্বন্দ্বে বিভক্ত এআইএডিএমকে চাইবে শক্তিশালী প্রার্থী দিয়ে নতুন সরকারকে শুরুতেই একটি ধাক্কা দিতে। তবে এআইএডিএমকের বিদ্রোহী প্রায় ২৫ জন বিধায়ক প্রকাশ্যে বিজয়ের সরকারকে সমর্থন দেয়ায় উপনির্বাচনে বিরোধীদের লড়াই বেশ কঠিনই হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

—ইন্ডিয়া টুডে ও টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অবলম্বনে

এএম