দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বেড়েছে, বেড়েছে শিক্ষার্থীর সংখ্যাও। তবে প্রশ্ন উঠছে শিক্ষার মান, গবেষণা, কর্মসংস্থান এবং বিশ্ব প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার সক্ষমতা নিয়ে। সেশনজট, গবেষণায় স্বল্প বিনিয়োগ, দক্ষতা ঘাটতি আর প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার অভাব দীর্ঘদিন ধরেই উচ্চশিক্ষা খাতের বড় চ্যালেঞ্জ।
এই বাস্তবতায় উচ্চশিক্ষাকে সময়োপযোগী ও টেকসই করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউজিসির এক কর্মশালায় শিক্ষামন্ত্রী বলেন- উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাড়ানোয় নয়, এবার গুণগত মানে নজর দিচ্ছে সরকার। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যানের কণ্ঠেও একই সুর।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আজকে পাবলিক ইউনিভার্সিটির সংখ্যা বেড়ে ৫৭-তে দাঁড়িয়েছে। আমরা কিন্তু কোয়ান্টিটিতে অনেক এগিয়ে গিয়েছি। কোয়ালিটিতে কতটুকু পেরেছি, আমরা জানি না।’
দেশে শিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের অন্যতম কারণ হিসেবে দক্ষতার ঘাটতির কথা তুলে ধরেন সরকারপ্রধান। এজন্য বাস্তবমুখী দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। পাশাপাশি, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার তাগিদ দেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে প্রতি বছর লাখ লাখ শিক্ষার্থী বের হয়। উচ্চশিক্ষা নিয়েও অনেকে বেকার থাকেন। অর্থাৎ বেকারত্বের সংখ্যা আমরা যদি একটু দেখি, উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যেই মনে হয় বেশি। এর কারণ সম্পর্কে নানা মতামত রয়েছে। তবে মনে হয় একটি ব্যাপারে কমবেশি সবাই একমত—অ্যাকাডেমিক শিক্ষা অর্জনের পাশাপাশি দক্ষতা অর্জন করতে না পারাই মনে হয় শিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্বের হার বেশি হওয়ার কারণ খুব সম্ভবত।’
প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত পুরো শিক্ষা কাঠামোকে যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এজন্যই বর্তমান সরকার মনে করে প্রাথমিক সিলেবাস থেকে শুরু করে উচ্চতর পর্যায় পর্যন্ত আমাদের শিক্ষা কারিকুলামগুলো একটু নতুনভাবে সাজানো এখন সময়ের দাবি। নৈতিক মূল্যবোধ সম্পন্ন কর্মসূচি শিক্ষা ছাড়া বেকারত্ব নিরসন মনে হয় খুব সম্ভবত সম্ভব হবে না। সময়োপযোগী শিক্ষা কারিকুলাম ছাড়াও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা মনে হয় সম্ভব নয়।’
কর্মশালা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবন থেকে হেঁটে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের মুজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।
সরকার প্রধানকে কাছে পেয়ে ক্যাম্পাসের নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের একজন প্রশ্ন করেন, ‘পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান এবং আমাদের সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে যে অনিয়মগুলো আছে, সেগুলো নিরসনে আপনার সরকার এবং আপনার পরিকল্পনা কী?’
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অপ্রয়োজনীয় ও অপচয় বন্ধ করা গেলে শিক্ষা খাতে আরও বড় বিনিয়োগ সম্ভব হতো বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে কাজ করছে বর্তমান সরকার।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকা ইউনিভার্সিটি বলতে আমরা যা বুঝি, স্বাভাবিকভাবে ইউনিভার্সিটিটা আনফরচুনেটলি ইন্টারন্যাশনালি র্যাঙ্কিংয়ের মধ্যে পড়ছে না। র্যাঙ্কিংয়ের মধ্যে না পড়ার বোধহয় অন্য একটা মূল কারণ—যেভাবে আসলে টিচার নিয়োগ হওয়া উচিত ছিল খুব সম্ভবত অতীতে সেভাবে হয়নি টিচার নিয়োগ। যেটা আমরা শুনেছি, দূর থেকে আমি যেটা শুনেছি বা যতটুকু দেখেছি, পত্র-পত্রিকায় পড়েছি—এখানে পলিটিক্যাল বায়াসনেসটাকে বোধহয় বেশি প্রায়োরিটি দেওয়া হয়েছে।’
প্রযুক্তিগত অগ্রগতির পাশাপাশি ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধ যাতে হারিয়ে না যায়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।





