তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের অনেকে বলছেন, সিডিসির পদক্ষেপ দেরিতে এসেছে এবং তা যথেষ্ট নয়। এ প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় শুরু থেকেই নেতৃত্ব দিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), যার সদস্যপদ থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময় যুক্তরাষ্ট্র সরে যায়।
গত ২ মে ডব্লিউএইচওকে হান্টাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের তথ্য জানানো হয়। দুই দিন পর সংস্থাটি জানায়, সাতজনের সংক্রমণ নিশ্চিত বা সন্দেহজনক। এর মধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, একজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় এবং তিনজনের হালকা উপসর্গ রয়েছে।
বুধবার সিডিসি জানায়, তারা পরিস্থিতি ‘ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ’ করছে। পরদিন আটলান্টায় সংস্থার ২৪ ঘণ্টার জরুরি অপারেশন কেন্দ্র সক্রিয় করা হয়, তবে সর্বনিম্ন সতর্কতা স্তরে। শুক্রবার রাতে সিডিসি প্রথমবারের মতো মার্কিন চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা পাঠায়। অন্তত ছয়জন মার্কিন যাত্রী সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নামার পর বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
তবে সমালোচকেরা বলছেন, অতীতে অনুরূপ পরিস্থিতিতে সিডিসি অনেক দ্রুত ও সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিল। জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ লরেন্স গস্টিন বলেন, ‘সিডিসি এখন কার্যত মাঠে নেই। এমনটা আগে দেখিনি।’ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ জিন মারাজ্জো বলেন, এই প্রাদুর্ভাব দেশের প্রস্তুতির সক্ষমতা যাচাইয়ের এক সতর্ক সংকেত, আর বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র যথেষ্ট প্রস্তুত নয়।
সিডিসির সাবেক কার্যক্রমের সঙ্গে তুলনা টেনে বিশেষজ্ঞরা বলেন, ২০২০ সালে জাপানের উপকূলে ডায়মন্ড প্রিন্সেস জাহাজে কোভিড-১৯ সংক্রমণের সময় সিডিসি সরাসরি নেতৃত্ব দিয়েছিল। এবার সেই সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে না।
এদিকে চারটি অঙ্গরাজ্য—অ্যারিজোনা, ভার্জিনিয়া, ক্যালিফোর্নিয়া ও জর্জিয়া—জাহাজ থেকে ফেরা বাসিন্দাদের পর্যবেক্ষণে রেখেছে। এখন পর্যন্ত তাদের কারও উপসর্গ দেখা যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়া ও ভার্জিনিয়া বলেছে, সাধারণ জনগণের জন্য ঝুঁকি কম।
তবে তথ্যঘাটতির সুযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর দাবি ছড়াতে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এক সাবেক কংগ্রেস সদস্য হান্টাভাইরাসের চিকিৎসায় আইভারমেকটিন ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন, যা স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সমর্থন করেন না।
বিশ্লেষকদের মতে, ডব্লিউএইচওর বাইরে থেকে এককভাবে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলা করা কঠিন। দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার বদলে বহুপক্ষীয় সমন্বয় জরুরি—এমন মতও উঠে এসেছে।





