হারানো স্নেহের ঠিকানা: আশ্রয় হারানো শৈশব আর বৃদ্ধাশ্রমের একাকীত্ব

বৃদ্ধাশ্রমে একজন নারী
বৃদ্ধাশ্রমে একজন নারী | ছবি: এখন টিভি
0

মায়ের হাতের রান্না, শুধু স্বাদের গল্প নয়, এক ধরনের আশ্রয়। যে আশ্রয়ে বড় হয় একটি শিশু, তৈরি হয় একটি পরিবার। কিন্তু সময়ের স্রোতে সেই হাতই একদিন ভারী হয়ে ওঠে নিঃসঙ্গতায়। কেউ তখন বৃদ্ধাশ্রমের জানালায় বসে খোঁজেন সন্তানের মুখ, আর কোনো শিশু মায়ের স্পর্শ না পেয়েও খুঁজে নেয় অন্য কারও স্নেহে নতুন ঠিকানা।

ভাত, তরকারি আর এক দলা একাকীত্ব। হামজার বয়স কত? দুই? তিন? ধরলাম চারই। অথচ, এই বয়সেই শিখে গেছে কীভাবে একা খেতে হয়।

ছোট্ট হামজার জীবনে মা কোনো মমতাময়ী রন্ধনশিল্পী নয়, বরং অসংলগ্ন ছায়া। সন্তানের কাছে থেকেও মমতাটুকু আচ্ছন্ন কোনো এক মেঘের আড়ালে।

রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও এই বৃদ্ধাশ্রমেই হামজা খুঁজে পেয়েছে আরেক মাকে। যাকে সে নানী বলে ডাকে। জঠরের টান না থাকলেও হৃদয়ের টানেই যত্নআত্তি করা। ঋণের শুরুটা বোধহয় এখান থেকেই।

এক জোড়া হাত। একটা সময় এই হাতেই ছিল সংসারের সব স্বাদ। হাতের সেই আঙুলগুলো কেবল কবুতরের দানা গোনে। সন্তান বড় হলেও বদলায়নি খাইয়ে দেবার অভ্যাস।

আরও পড়ুন:

বৃদ্ধাশ্রমে থাকা এই নারী বলেন, অনেক কষ্ট করি ছেলেগুলোকে বড় করেছি। যত্ন করে, ভালো-মন্দ রান্না করে খাইয়েছি, দিয়েছি, চলেছি।

জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে মায়েরা কি মেঘ দেখেন? নাকি স্মৃতির রোমন্থনে খুঁজে বেড়ান প্রিয় সন্তানের আবদার, বাহানা!

অপর এক নারী বলেন, যা কিছু পেয়েছি, নিজে না খেয়ে ছেলেদের খাইয়েছি। ভালো-মন্দ রান্না করে খাইয়েছি। মাছ, মাংস বেশি বেশি রান্না করে সামনে দিয়েছি। কোনো সময় আমার জন্য রাখছে, কোনো সময় রাখে নি। এখন আমাকে দেখে না, আমাকে খাওয়ায় না।

পৃথিবীর সব মা-ই রন্ধনশিল্পী। কেউ অন্ন দিয়ে, কেউ বা কেবল অস্তিত্ব দিয়ে আমাদের ঋণী করে যান। মা দিবসে শপথ হোক একটাই, মায়ের হাতের রান্নার তৃপ্তিটুকু যেন বৃদ্ধাশ্রমের একাকীত্বে গিয়ে না থামে।

ইএ