কিশোরী আফসানা মিমের এই কান্না অন্ধকার জীবনে এক চিলতে আলোর। ভয়ঙ্কর অতীত কাটিয়ে এক মায়ের আঁচলে নিজেকে গড়ার।
আফসানা মিমের মত এমন ২০ জন শিশু কিশোরীর গল্পটা অনেকটা একি। কেউ বাবা মায়ের বিচ্ছেদের বলি, কেউ অন্ধকার জীবন থেকে, আবার কেউবা এক মাস বয়সেই মাতৃহীন অন্ধকার অনিশ্চিত জীবন থেকে ডানা মেলেছে এক আনন্দ নীড়ে। রক্তের বাধনহীন এক মায়ের কোলে। কাউকেই গর্ভে ধারণ না করেও, একজন লিজা হয়ে উঠেছেন ২০ কন্যার প্রিয় ‘মা'!
লিজা বলেন, ‘ওদের মায়েরা ওদেরকে পেটে ধরছে, কিন্তু আমি তো বুকে ধারণ করছি। আমি তো আত্মায় ধারণ করছি। প্রতি মুহূর্তে এই লড়াইটা করি, যে আমার মেয়েরা যেন নিজের আত্মসম্মান বজায় রেখে মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারে।’
লিজা যখন মায়া মমতার বাধন দিয়ে লড়ছেন, তখন ফরিদার গল্পটা কিছুটা ভিন্ন। ৬ মাসের সন্তানের খুদা মেটাতে ভোরের আলো ফুটতেই তার লড়াই শুরু হয় ইটপাথরের শহরে। আর মাথার ওপর ছাদ না থাকা মা তামান্নাও স্বপ্ন দেখেন ১০ মাসের আবু সাঈদকে নিয়ে। রেল স্টেশনের রাত দিন কাটলেও সন্তান বুকে আগলে রাখেন ঝড় বৃষ্টি কিংবা অন্ধকারে।
আরও পড়ুন:
তামান্না বলেন, ‘কি করছি না করছি সেটা আমার দেখার বিষয় না। আমার বাড়িঘর নেই, থাকুক বা না থাকুক, আমার সন্তান আমার কাছে অনেক কিছু। আমার সন্তান ছাড়া আমি দুই চোখে কিছু দেখি না। আমার কষ্ট হলেও আমার, না কষ্ট হলেও আমার।’
ফরিদা বলেন, ‘আমার বাচ্চা ছাড়া এখন আর আমার কিছু নাই। আমি চাই যে আমার বাচ্চাটা অনেক কিছু না থাকুক, ও আমার জীবনে থাকুক আর আমি ওরে মানুষের মতো মানুষ করতে পারি।’
ফরিদা ও তামান্না আগলে রাখলেও, সাদেককে আগলে রাখবে কে? মায়ের আদর কিংবা স্নেহ কিছুই তো পায়নি সে। তবুও মায়ের প্রতি তার যে টান, সম্মান তা কী মাপা যাবে পৃথিবীর কোন পাল্লায়?
সাদেক বলেন, ‘আমার মন চায় আমার মায়ের হাত ধরে ঘুরতে, মাথায় তুলে রাখতে।’
সাদেকের করুণ নিয়তিতে মা অপরাধী নয় , বরং তামান্না, ফরিদা লিজা কিংবা তার মা একই সুতোই বাধা, মাতৃত্বে, মায়া মমতার বাধনে। কেননা জঠরে ধারণ ছাড়াও মা হওয়া যায়, সব কিছুর ঊর্ধ্বে মাকে ভালোবাসাও যায়।





