থাইল্যান্ডে মন জাতিগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী রকেট উৎসব: দর্শকদের উপচেপড়া ভিড়

রকেট উৎসব
রকেট উৎসব | ছবি: সংগৃহীত
0

উৎসবমুখর আমেজে থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হলো দেশটির মন জাতিগোষ্ঠীর বার্ষিক রকেট উৎক্ষেপণ প্রতিযোগিতা। ভিন্নধর্মী এ আয়োজন দেখতে এদিন দেশটির পাথুম থানি প্রদেশে প্রচুর দর্শক সমাগম হয়। শিশু-কিশোরদের আনন্দ আর জনতার তুমুল উল্লাস প্রতিযোগিতাটিকে একটি উৎসবে পরিণত করে।

দর্শক সারিতে তুমুল করতালি। একের পর এক রকেট ছুটে চলেছে নির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে। লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত করা রকেটের ধোঁয়ার সঙ্গে দর্শকের উল্লাসও থেমে যায়।

একসময় প্রবীণ ভিক্ষুদের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় সম্মান প্রদর্শনে শবদাহের চিতায় রকেট জ্বালাতেন থাইল্যান্ডের মন সম্প্রদায়ের মানুষ। তাদের বিশ্বাস, শবদাহে সরাসরি হাতে আগুন দেয়া অসম্মানজনক।

কালের বিবর্তনে চিতায় রকেট জ্বালানোর প্রথা উঠে গেলেও সেই ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে এখন রকেট জ্বালিয়ে লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত করাকে প্রতিযোগিতায় রূপান্তরিত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:

থাইল্যান্ডের মন সম্প্রদায়ের চব্বিশটি মন্দিরের ১২ জনের দুটি দল এবারের প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। প্রতিটি দল প্রায় ৩০০ মিটার দূরের একটি লক্ষ্যবস্তুর দিকে ১ থেকে ১ দশমিক ১৫ মিটার পাল্লার রকেট নিক্ষেপ করে। যে দলের রকেট লক্ষ্যবস্তুকে সবচেয়ে বেশি সরাসরি আঘাত করবে সেই দলই বিজয়ী বলে বিবেচিত হয়। বিজয়ী দলকে পুরস্কার হিসেবে দেয়া হয় ৩০ হাজার নগদ থাই বাথ।

বিজয়ী দলের সদস্যরা বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, এই ঐতিহ্য মন জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের সঙ্গে হাতে মিলিয়ে চলবে। তাই আমি মন্দিরগুলোর মধ্যে এটি নিয়ে একটি প্রতিযোগিতা করার ধারণা দেই। সম্ভবত এটিই এখন একমাত্র খেলা যা পাথুম থানি প্রদেশের সব মন্দিরকে একত্রিত করে। আর এটি এখন খুব সমাদৃতও হচ্ছে।

প্রতি বছর পাথুম থানি প্রদেশের সবগুলো মন্দিরে একসঙ্গে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে।

ইএ