সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে নৌকাভ্রমণ করছেন একজন বৌদ্ধ ভিক্ষু। নৌবিহারের মধ্যেই ভক্তদের থেকে সংগ্রহ করছেন ভিক্ষা ও পূজার সামগ্রী। তবে ভক্তকূল আর পর্যটকদের আগ্রহের কেন্দ্রে ভিক্ষুর সাগরেদরা। একপাল কুকুরছানাকে সফরসঙ্গী করেছেন তিনি।
দৃশ্যটি থাইল্যান্ডের পাথুম থানি প্রদেশের। আদুরে ছানাদের নিয়ে ওয়াট চিন ওয়ারারামের মঠাধ্যক্ষ লুয়াং পর চামনান যখন রোজ সকালে ভিক্ষার জন্য বের হন, চাও ফ্রায়া নদীর তীরে তখন ভক্তদের কৌতুহলের কেন্দ্রে এই কুকুরছানারা।
কোনো এক সকালে মন্দির চত্বরে ফেলা যাওয়া একটি ছোট্ট সাদা কুকুর ছানাকে উদ্ধার করেন এই ভিক্ষু। এরপর স্থানীয়দের অনেকেই অজ্ঞাত পরিচয়ে এই মন্দিরে কুকুর ছানা রেখে যেতে শুরু করেন। এই শাবকদের সেবা-যত্ন করে সারিয়ে তোলে ভিক্ষুর সহকারীরা। বাড়তে থাকে সহচর কুকুরছানাদের সংখ্যা।
আরও পড়ুন:
ভিক্ষু বলেন, ‘মন্দিরে রেখে যাওয়া কুকুরছানাদের নিয়ে শুরু করেছিলাম। এরপর সে বাচ্চা দেয় আরও কুকুর এসে জড়ো হয় এখানে। তখন থেকেই এই ছানাদের যত্নে আদরে পালন করছি। আমি যেখানেই যাই, এমনকি ঘুমাতে গেলেও ওরা আমার পিছু ছাড়ে না।’
বৌদ্ধ ভিক্ষু চামনান জানান, এখন তার কাছে ২০টির মতো কুকুর ছানা আছে। এরা প্রত্যেকেই তার পিছু ছাড়তে চায় না। সকালে ভিক্ষা সংগ্রেহের জন্য ৩০ মিনিটের নৌবিহার করেন ভিক্ষু, সঙ্গে নেন ১০/১২টি সাবককে। যে কুকুরগুলোর বয়স হয়েছে তাদের রেখে আসেন বিশ্রামের জন্য। আরও জানান, একবার একজোড়া কুকুর খেলতে খেলতে পানিতে পড়ে যায়, এরপর প্রতিটি শাবককে সাঁতার শেখানো হয়েছে।
স্থানীয় উপাসকরা জানিয়েছেন, ভিক্ষু আর তার কুকুর ছানাদের দলকে একসঙ্গে দেখলে পরম শান্তি অনুভব করেন তারা। হানাহানি আর সংকটের তিক্ততা ভুলে প্রাণ-ভরে উপলব্ধি করেন জীবে প্রেম আর ঈশ্বর বন্দনার পরম সত্য।
ভিক্ষুর নৌবিহারের মনোরম দৃশ্য অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেক পর্যটকই আসেন সরাসরি সাক্ষাতের জন্য। ভিক্ষুদের দান করা বৌদ্ধধর্ম অনুসারে খুবই পুণ্যের কাজ। কিন্তু কুকুরছানাদের নিয়ে আসা ভিক্ষুকে কিছু সামগ্রী দেয়ার মধ্যে ভিন্ন এক নির্মল আনন্দ খুঁজে পান স্থানীয় ও পর্যটকরা।





