নড়াইল চিত্রা নদীর পাড়ের গ্রাম পংকবিলা। এলাকাটি অনেক আগে থেকেই লিচু গ্রাম হিসাবে খ্যাতি অর্জন করেছে। মৌসুমের শুরুতেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লিচু ব্যবসায়ী ও লিচু সংশ্লিষ্টদের আনাগোনায় মুখরিত হয়ে ওঠেছে গ্রামটি। ভোর থেকে সন্ধ্যা অবধি অনেকে গাছের মগডালে বসে লিচু সংগ্রহ করছে, কেউ বা আবার সেই লিচু বাছাই করছে, অনেকে ব্যস্ত সেই লিচু গণনা করে প্যাকিং করায়।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি মৌসুমে গত দশ বছরের তুলনায় ভালো ফলন হয়েছে বলে জানান চাষি ও ব্যবসায়ীরা। শতভাগ অর্গানিক এসব লিচু স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্তত ২০টি জেলায়। স্থানীয় বাজারে খুচরা একশত লিচু বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ৩৫০ টাকায়। আর ২ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকায় পাইকাররা কিনছেন প্রতি এক হাজার লিচু।
লিচু চাষিরা জানান, এই লিচুটা সবচেয়ে আগে পাকে এবং চড়া দামেই বিক্রি হয় এবং প্রতিটা ঘরে ঘরেই লিচু চাষ হয়। আজ থেকে আরও এক সপ্তাহ আগে লিচু ভাঙা শুরু হয়ে গেছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, সবার আগে পাকে এজন্য অনেক পাইকার এখানে আসে, বিভিন্ন জায়গা থেকে আসে। এখান থেকে লিচু নিয়ে যায়, বাজারজাত করে মোটামুটি ব্যবসায় একটা প্রফিট আসে।
আরও পড়ুন:
গ্রামটি অনেক আগেই লিচু গ্রাম নামে পরিচিতি লাভ করেছে। লিচু গ্রামের সাফল্য দেখে আশপাশের গ্রামে লিচু চাষ শুরু হয়েছে। আগামীতে এ চাষ আরও বাড়বে বলে মনে করেন এই কৃষি কর্মকর্তা।
নড়াইল জেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, ‘উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে আমরা কৃষকদেরকে লিচু চাষ পদ্ধতি, পোকামাকড় দমনসহ অন্যান্য বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছি, হাতে কলমে তাদের শেখাচ্ছি যাতে লিচু আবাদে কোনো সমস্যা না হয়।’
গ্রামটিতে এ বছর বানিজ্যিকভাবে ৪২ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। এখানে সাধারণত দেশি বিভিন্ন জাত এবং বোম্বায়, মোজাফফর, চাইনা থ্রি জাতের লিচু আবাদ করা হয়। চলতি মৌসুমে এ সকল বাগান থেকে ৪০০ থেকে ৪৫০ মেট্রিক টন লিচু উৎপাদনের আশা করছে সংশ্লিষ্টরা। যার বাজার মূল্য অন্তত দুই কোটি টাকা।





