ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর এই অন্তহীন যুদ্ধ এবার থামান: মার্কিন সিনেটর

বার্নি স্যান্ডার্স
বার্নি স্যান্ডার্স | ছবি: সংগৃহীত
0

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর কঠোর সমালোচনা করে দেশ দুটির শুরু করা ‘অন্তহীন যুদ্ধ’ অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানিয়েছেন মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। গতকাল (মঙ্গলবার, ৫ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেয়া এক পোস্টে তিনি ইরান, লেবানন, উপসাগরীয় অঞ্চল ও খোদ ইসরাইলে এই যুদ্ধের ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান তুলে ধরেন। তুর্কিয়া টুডের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও লেবাননে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যৌথ হামলা শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত হতাহতের সংখ্যা উল্লেখ করে স্যান্ডার্স জানান, ইরানে ৩ হাজার ৩৭৫ জন নিহত ও ২৬ হাজার ৫০০ জন আহত হয়েছেন। লেবাননে প্রাণ হারিয়েছেন ২ হাজার ৭০২ জন এবং আহত ৮ হাজার ৩১১ জন।

উপসাগরীয় দেশগুলোতে ২৮ জন এবং ইসরাইলে ২৬ জন নিহত হওয়ার পাশাপাশি আহত হয়েছেন আরও কয়েক হাজার মানুষ। এছাড়া যুদ্ধে ১৩ জন মার্কিন সেনার প্রাণহানি ও ৩৮১ জন আহত হওয়ার তথ্য দিয়ে স্যান্ডার্স লেখেন, ‘ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর এই অন্তহীন যুদ্ধ এবার থামান।’

সিনেটর স্যান্ডার্সের এই অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ইসরাইল-সংক্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গির এক বড় পরিবর্তনেরই প্রতিফলন। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াল্লা নিউজ’-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি সিনেটে ইসরাইলের সঙ্গে একটি অস্ত্র চুক্তির বিপক্ষে ৪৭ জন ডেমোক্রেটিক সিনেটরের মধ্যে ৪০ জনই ভোট দিয়েছেন।

স্যান্ডার্স নিজেই এই পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে বলেন, যেখানে আগে মাত্র ১১ জন চুক্তির বিপক্ষে ছিলেন, এখন সেখানে ৪০ জন দাঁড়িয়েছেন। এটিই সাধারণ মার্কিন জনগণের মতামতের প্রতিফলন।

একসময় যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ইসরাইলের বিরোধিতা করাকে ‘রাজনৈতিক আত্মহত্যা’ হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু পরিস্থিতি এখন বদলেছে। ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিতে ইচ্ছুক দুই দলের নেতারাই এখন আর ইসরাইলকে নিঃশর্ত সমর্থন দেয়াকে রাজনৈতিক লাভ হিসেবে দেখছেন না।

শিকাগোর সাবেক মেয়র রাহম ইমানুয়েলও এখন ইসরাইলকে বছরে দেয়া ৩৮০ কোটি ডলারের নিরাপত্তা সহায়তা কমানো বা স্থগিত করার পক্ষে কথা বলছেন। ওয়াল্লা নিউজের মতে, এসব কট্টর অবস্থান এখন আর আলোচনার বাইরে নেই, বরং তা ডেমোক্রেটিকদের মূলধারার বক্তব্যে পরিণত হয়েছে।

এই পরিবর্তনের মূলে কাজ করছে এক বিশাল প্রজন্মগত ও সাংস্কৃতিক রূপান্তর। আগের প্রজন্ম যারা ১৯৬৭ বা ১৯৭৩ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধ দেখে বড় হয়েছে, তাদের চোখে ইসরাইল ছিল একটি ‘শিকার’ বা ভুক্তভোগী দেশ। কিন্তু বর্তমান তরুণ প্রজন্ম বেড়ে উঠছে গাজা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভয়াবহ সব চিত্র দেখে।

তাদের কাছে ইসরাইলের ভাবমূর্তি এখন ‘ভুক্তভোগী’ থেকে বদলে ‘গণহত্যাকারী’ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন, ইসরাইল ইস্যুতে মার্কিন নীতি এখনকার চেয়ে অনেক বেশি সতর্ক ও কঠোর হবে।

এএম