গত ২৭ এপ্রিল ডিএইচএস-এর গোয়েন্দা ও বিশ্লেষণ শাখার তৈরি করা ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিযুক্ত কল অ্যালেনের ‘একাধিক সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষোভ’ ছিল। অ্যালেনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টগুলো পর্যালোচনা করে প্রতিবেদনে উপসংহার টানা হয়েছে যে, ইরান সংঘাত তার এই হামলার সিদ্ধান্তের পেছনে ভূমিকা রেখে থাকতে পারে। অ্যালেন তার পোস্টে এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেছিলেন।
গত ২৫ এপ্রিল হোয়াইট হাউস করেসপনডেন্টস ডিনারে সেই ব্যর্থ হামলার ঘটনায় একটি ‘ক্রিটিক্যাল ইনসিডেন্ট নোট’ প্রকাশ করা হয়, যা রয়টার্সের হাতে এসেছে। যদিও ডিএইচএস, বিচার বিভাগ বা এফবিআই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। মঙ্গলবার কল অ্যালেনের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় কর্মকর্তার ওপর হামলাসহ একাধিক নতুন অভিযোগ আনা হয়েছে। এর আগে তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা ও বেআইনিভাবে অস্ত্র বহনের অভিযোগ আনা হয়েছিল।
এফবিআই বর্তমানে অ্যালেনের ডিজিটাল পদচিহ্ন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করছে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, হামলার রাতে অ্যালেন তার আত্মীয়দের কাছে একটি ইমেইল পাঠিয়েছিলেন, যাকে ‘ম্যানিফেস্টো’ বা ইশতেহার হিসেবে দেখছেন গোয়েন্দারা। ওই বার্তায় তিনি প্রশাসনের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং এক ‘বিশ্বাসঘাতক’কে লক্ষ্যবস্তু করার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন, যদিও সেখানে সরাসরি ট্রাম্পের নাম উল্লেখ ছিল না।
অ্যালেনের ব্লু-স্কাই অ্যাকাউন্টে দেখা গেছে, হামলার আগের সপ্তাহগুলোতে তিনি ট্রাম্পবিরোধী অসংখ্য বার্তা শেয়ার করেছিলেন। এর মধ্যে গত ৭ এপ্রিল ইরানের সভ্যতা ধ্বংস করার বিষয়ে ট্রাম্পের হুমকির কড়া সমালোচনাও ছিল। এ ছাড়া অভিবাসন নীতি, ইলন মাস্ক এবং ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন।
২০২৪ সালের একটি পোস্টে তিনি ট্রাম্পকে ‘শয়তান’ হিসেবেও অভিহিত করেছিলেন। এফবিআই কর্মকর্তারা বলছেন, ২০২৪ সালে পেনসিলভানিয়ায় ট্রাম্পের ওপর হামলার ঘটনার মতো এবার যেন কোনো ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ডালপালা মেলতে না পারে, সে জন্য তারা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এই তদন্ত এগিয়ে নিচ্ছেন।
 dinner shootin-768x402.webp)




