হান্টাভাইরাস মূলত ইঁদুরজাতীয় প্রাণীবাহিত একটি বিরল কিন্তু অত্যন্ত মারাত্মক ভাইরাস। এই ভাইরাসে আক্রান্ত ইঁদুরের মল, মূত্র ও লালার মাধ্যমে এটি ছড়ায়। বাতাসে মিশে থাকা ইঁদুরের বর্জ্যের দূষিত কণা শ্বাসপ্রশ্বাসের সঙ্গে মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে এই সংক্রমণ ঘটে। তবে করোনাভাইরাস বা ফ্লুর মতো এটি সহজে ছড়ায় না এবং মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণের ঘটনা খুবই বিরল। কেবল ভাইরাসের ‘আন্দিজ’ নামের একটি বিশেষ ধরনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে মানুষ থেকে মানুষে ছড়ানোর নজির রয়েছে।
এই ভাইরাস প্রধানত দুটি কারণে এত ভয়ংকর। এর প্রথম ধরনটি সরাসরি ফুসফুসকে আক্রমণ করে, যা সবচেয়ে বেশি প্রাণঘাতী। এতে সংক্রমিত হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই রোগীর কাশি ও তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। ধীরে ধীরে জ্বর, চরম ক্লান্তি, পেশিতে ব্যথা, বমি বমি ভাব ও পেটে ব্যথা দেখা দেয়।
আরও পড়ুন:
এই ধরনের ভাইরাসে আক্রান্তদের মৃত্যুহার প্রায় ৩৮ শতাংশ। অন্যদিকে দ্বিতীয় ধরনটি মূলত কিডনিতে আক্রমণ করে। এর প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে তীব্র মাথাব্যথা, চোখে ঝাপসা দেখা এবং পেটে ব্যথা। পরিস্থিতি জটিল হলে রক্তচাপ কমে যায়, অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হয় এবং কিডনি বিকল হতে পারে। এই ক্ষেত্রে মৃত্যুহার ১ থেকে ১৫ শতাংশ।
সাধারণত সংক্রমিত হওয়ার এক থেকে আট সপ্তাহের মধ্যে এই রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়। বর্তমানে হান্টাভাইরাসের সুনির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা বা টিকা নেই। আক্রান্তদের মূলত অক্সিজেন থেরাপি, ডায়ালাইসিস ও শ্বাসযন্ত্রের অন্যান্য সহায়ক চিকিৎসাসেবা দিয়ে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়। পিসিআর পরীক্ষার মাধ্যমে এই ভাইরাস শনাক্ত করা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, প্রমোদতরির মতো আবদ্ধ পরিবেশে যাত্রীরা হয়তো উপকূলীয় কোনো ভ্রমণে গিয়ে সংক্রমিত হয়েছেন, অথবা জাহাজের কার্গোর মাধ্যমে ইঁদুর প্রবেশ করে এই রোগ ছড়িয়েছে। যুক্তরাজ্য ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ নিয়ে নিবিড় তদন্ত চালাচ্ছে। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আশ্বস্ত করেছেন যে দৈনন্দিন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে এটি ছড়ায় না বলে সাধারণ মানুষের জন্য এই ভাইরাসের ঝুঁকি একেবারেই কম।





