৯ মে নতুন সরকারের শপথ, ম্যাজিক ফিগার ছাড়িয়ে বিজেপির বড় জয়

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচিত বিজেপির প্রার্থীরা
পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচিত বিজেপির প্রার্থীরা | ছবি: সংগৃহীত
0

পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত রাজ্যের নতুন সরকার আগামী ৯ মে রবীন্দ্র জয়ন্তীর দিন শপথ নেবে। শুধু ম্যাজিক ফিগার নয়, দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়েই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় জাঁকিয়ে বসতে যচ্ছে বিজেপি। বিপরীতে তৃণমূলকে থামতে হয়েছে ৮১ আসনে। সহিংসতার জেরে নিষিদ্ধ হয়েছে গেরুয়া শিবিরের বিজয় মিছিল, জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এদিকে, মমতাকে পরপর দুইবার হারিয়ে বিজয়ী প্রার্থী শুভেন্দুর মন্তব্য, মুসলিমদের সব ভোট পেয়েও সুবিধা করতে পারেননি বাংলার দিদি। আর, ১০০ আসন লুটের অভিযোগ তুললেও, তৃণমূলের লড়াই থামবে না বলে সাফ জানিয়েছে মমতা।

হরিয়ানা থেকে অন্ধ্রপ্রদেশ আর মহারাষ্ট্র থেকে অরুণাচল হয়ে এবার গেরুয়া মানচিত্রে নতুন সংযোজন পশ্চিমবঙ্গ। স্বাধীনতার ৭৯ বছর পর পশ্চিমবঙ্গে উত্থান হলো বিজেপির। গেল লোকসভা নির্বাচনে ২শ আসন ছুঁতে না পারলেও এবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ম্যাজিক ফিগার আদায় করে ছাড়লো জনতা পার্টি। ৭৭ থেকে একলাফে ২০৬ আসন। তছনছ মমতার সাজানো বাগান ।

বিজেপি সদর দপ্তরেও সাজ সাজ রব। কোচা ধুতি আর পাঞ্জাবি গায়ে প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদির উদযাপনেও ষোলআনা বাঙালিয়ানার ছাপ। জানালেন, ভয়ের সংস্কৃতি ছুড়ে ফেলে পরিবর্তনের পথে বাংলার অগ্রযাত্রা শুরু হচ্ছে। আর যার শুরুটাই হবে নারীদের অধিকার রক্ষা আর কর্মসংস্থানের মাধ্যমে।

২৯৩ টি আসনের মধ্যে ২০৬ আসন জিতে দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন ছাড়াও অনেক দিক থেকেই অভিনব বিজেপির এ উত্থান। শক্তিশালী ভিত উত্তরবঙ্গের কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং ও কালিম্পং ছাড়াও দক্ষিণবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম ও পুরুলিয়ায় তৃণমূলকে রীতিমতো কুপোকাত করেছে গেরুয়া শিবির। জিতে নিয়েছে ৬৫ আসন। আর গেল নির্বাচনে উত্তর চব্বিশ পরগনার ৩৩টি আসনের ৬টি জিতলেও এবার ১৮টি আসন তাদের। ৪৫ দশমিক ৪৮ শতাংশ ভোট পেয়ে সেখানেও রেকর্ড গড়েছে গেরুয়া শিবির।

আরও পড়ুন

২০২৬-এর বিধানসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৭ মে। এরই মধ্যে রাজ্য বিজেপির প্রেসিডেন্ট শমীক ভট্টাচার্য্য জানিয়েছেন, ৯ মে রবীন্দ্র জয়ন্তীর দিন শপথ নেবে নবনির্বাচিত সরকার। এর আগে নতুন বিধায়কদের নিয়ে একটি বৈঠক করবে বিজেপি। সেখানে সর্বসম্মতিক্রমে পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচিত করা হবে, যিনি রাজ্যের হবেন পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী।

এদিকে, জয় সুনিশ্চিত হওয়ার পর মমতাকে একহাত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে থাকা বিজেপি'র শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূল সভানেত্রীকে সরাসরি আক্রমণ করে বলছেন, মুসলিমদের সব ভোট পেয়েও পরপর দুইবার ধরাশায়ী হয়েছেন মমতা। পরাজয় মেনে নিয়ে তার সরে যাওয়া অনিবার্য ছিলো।

আর, ১৫ বছরের শক্ত ভিত নড়ে যাওয়ার ধাক্কার পরেও মাঠ ছেড়ে যাবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিদায়ি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটগণনা কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘১০০টিরও বেশি আসন লুট করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নিরপক্ষেতাকেও কাঠগড়ায় তুলেছেন মমতা।’

অন্যদিকে, সহিংসতার আশঙ্কায় সবধরনের বিজয় র‌্যালি ও এ ধরনের কর্মসূচি নিষিদ্ধ করেছে নির্বাচন কমিশন; রাজ্যে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। দু'দফার ভোট নির্বিঘ্নে মিটলেও, সোমবার দুপুরের পর থেকেই রাজ্যের নানা জায়গায় বিক্ষিপ্ত অশান্তি শুরু হয়েছে। কলকাতা থেকে হাওড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে পূর্ব মেদিনীপুর, উত্তর ২৪ পরগনাসহ বেশ কিছু এলাকায় তৃণমূল কর্মীদের মারধর, অফিস ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে।

জেআর