গভীর নলকূপে পড়া শিশুকে তুলতে নাটোরের তারা মিয়ার অভিনব আবিষ্কার

নাটোরের তারা মিয়ার অভিনব আবিষ্কার
নাটোরের তারা মিয়ার অভিনব আবিষ্কার | ছবি: এখন টিভি
0

পাইপ বা নলকূপের গভীর গর্তে পড়ে শিশু মৃত্যু-এমন মর্মান্তিক ঘটনা প্রায়ই শোনা যায়। তবে এবার সেই সমস্যার একটি সমাধান বের করেছেন নাটোরের কৃষক তারা মিয়া। নিজ উদ্যোগে তৈরি করেছেন শিশু উদ্ধারে বিশেষ খাঁচা। প্রাথমিকভাবে তারা মিয়ার উদ্ভাবিত খাঁচাটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সন্তোষ প্রকাশ করেছে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল।

গত ১১ ডিসেম্বর রাজশাহীর তানোরে কোয়েল হাট গ্রামে গভীর গর্তে পড়ে সাজিদ নামের এক শিশু। এরপর টানা ৩২ঘণ্টা উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে মৃত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস।

নাটোর সদরের বড়বাড়িয়া গ্রামের কৃষক তারা মিয়ার আবিষ্কার এক অভিনব খাঁচা। যা দিয়ে গভীর নলকূপ বা সরু গর্তে পড়ে যাওয়া শিশুকে দ্রুত ও জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব। উচ্ছ্বসিত তারা মিয়া বলেন, টেলিভিশনে প্রায়ই দেখা যায়-গভীর গর্তে পড়া শিশুদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালায়। অনেক সময়ই শিশুদের জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয় না। আর সে লক্ষ্যেই বানানো তার এ বিশেষ খাঁচা। তারা মিয়া বলেন, ‘জীবিত কীভাবে উদ্ধার করা যায় সে বিষয়ে আমি চিন্তা করে এটা আমি বানিয়েছি।’

আরও পড়ুন

গভীর গর্ত থেকে শিশু উদ্ধারে তারা মিয়ার আবিষ্কার দেখে হতবাক তার নিজ গ্রামের মানুষও। তাদের দাবি, তারা মিয়ার আবিষ্কারকে কাজে লাগানো হলে যে কোন শিশুর তাৎক্ষণিক জীবন বাঁচানো সম্ভব। এ প্রক্রিয়াকে ভালোভাবে ব্যবহার করা যায় তাহলে দেশের মানুষের জন্য অনেক উপকার হবে বলে জানান স্থানীয়রা।

এদিকে, খাঁচাটিতে সার্চ ভীষণ ক্যামেরা ও লাইট যুক্ত করে কৃত্রিম উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল। ২০ ফুট গভীর একটি গর্তে ১১ কেজি ওজনের গাছের গুঁড়ি ফেলে খাঁচার মাধ্যমে মাত্র দুই মিনিটে সেটি উপরে তোলা হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি ভিডিও কলে ঢাকা থেকে সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন সংস্থাটির পরিচালক।

রাজশাহী বিভাগের ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক মঞ্জিল হক বলেন, ‘আশাকরি ঢাকায় নিয়ে ভালোভাবে গবেষণা করে এর একটি ভালো ফলাফল নিয়ে আসতে পারবো।’

জেআর