প্রতিবেদনে বলা হয়, চিরকুটটি প্রথম খুঁজে পেয়েছিলেন এপস্টেইনের সেলে থাকা তার সঙ্গী নিকোলাস টার্টাগ্লিওন। সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তা নিজেও একাধিক খুনের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত। ২০১৯ সালের জুলাই মাসে এপস্টেইন প্রথমবার আত্মহত্যার চেষ্টা করার কয়েক দিন পর টার্টাগ্লিওন তাদের সেলে থাকা একটি গ্রাফিক নোভেলের ভেতর চিরকুটটি পান। হলুদ আইনি প্যাড থেকে ছেঁড়া কাগজে লেখা ওই চিরকুটে কেবল একটি বাক্য ছিল— ‘বিদায় জানানোর সময় হয়েছে’ (টাইম টু সে গুডবাই)।
টার্টাগ্লিওন চিরকুটটি কারা কর্তৃপক্ষের কাছে না দিয়ে সরাসরি নিজের আইনজীবীদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। পরে তার আইনজীবী দাবি করেন যে তারা চিরকুটটির সত্যতা যাচাই করেছেন, যদিও কীভাবে তা করা হয়েছে তা স্পষ্ট নয়। টার্টাগ্লিওন জানিয়েছিলেন, তিনি ভয় পেয়েছিলেন যে এপস্টেইন হয়তো তাকেই হামলার জন্য অভিযুক্ত করবেন, তাই তিনি এটি লুকিয়ে রাখেন। বর্তমানে একটি ফেডারেল আদালতের বিচারকের নির্দেশে এই নোটটি সিলগালা বা গোপন অবস্থায় রাখা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মার্কিন বিচার বিভাগ বা এপস্টেইনের মৃত্যু নিয়ে তদন্তকারী দলগুলোর কাছে এখনো এই চিরকুটটি নেই এবং এটি জনসমক্ষে প্রকাশও করা হয়নি। নিউ ইয়র্ক টাইমস আদালতের কাছে নোটটি জনসমক্ষে প্রকাশের আবেদন করেছে। সংবাদপত্রটির যুক্তি, এটি টার্টাগ্লিওনের মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট না হলেও এপস্টেইনের মৃত্যু এবং তার শেষ দিনগুলোতে মানসিক অবস্থা বোঝার জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ।
এপস্টেইনের মৃত্যু নিয়ে শুরু থেকেই রহস্য দানা বেঁধেছিল। ম্যানহাটন কারেকশনাল সেন্টারে তার কারাজীবনের নিরাপত্তা ত্রুটি এবং তার গলায় লাল দাগ পাওয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছিল।
সে সময় এপস্টেইনে অভিযোগ করেছিলেন যে টার্টাগ্লিওন তার ওপর হামলা করেছেন, যদিও টার্টাগ্লিওন সব সময় এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। এই রহস্যময় সুইসাইড নোটটি প্রকাশিত হলে এপস্টেইনের জীবনের শেষ মুহূর্তগুলোর ওপর নতুন করে আলো পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।





