মে দিবস: আনুষ্ঠানিকতা ছাপিয়ে অধিকার আদায়ের অঙ্গীকার

কারখানায় কাজ করছেন শ্রমিকরা | ছবি: এখন টিভি
0

শ্রমিক দিবস আমাদের সেই বাস্তবতার সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়, যা আমরা অনেক সময় এড়িয়ে যাই। এই দিনটি শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং শ্রমিকদের অবদান স্মরণ করার, তাদের প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করার একটি উপলক্ষ। তাদের জন্য প্রয়োজন নিরাপদ কর্ম পরিবেশ, স্বাস্থ্যসেবা এবং একটি স্থিতিশীল আয়ের নিশ্চয়তা।

সৈয়দপুরে রয়েছে ক্ষুদ্র শিল্পের পাশাপাশি রেলওয়ে কারখানার মতো ভারী শিল্প। এসব লেদ মেশিনের কারখানা, রেলওয়ে ওয়ার্কশপ এবং রেলস্টেশনে প্রতিদিনই ঘাম, দক্ষতা আর নীরব সংগ্রাম মিশে গড়ে ওঠে একেকটা জীবন্ত গল্প।

অন্যদিকে রেলওয়ে কারখানার শ্রমিকদের জীবনও কম কঠিন নয়। একটি ট্রেন নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাবে কি না, তার অনেকটাই নির্ভর করে এই অজ্ঞাতনামা শ্রমিকদের নিখুঁত কাজের ওপর। এসব মানুষ শুধু যন্ত্রাংশ তৈরি বা মেরামত করেন না, তারা আসলে দেশের গতিকে সচল রাখেন।

এরই ধারাবাহিকতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ স্টেশনের কুলিরা। লাল পোশাক পরা এই মানুষগুলো দিনের পর দিন ভারী মালপত্র মাথায় তুলে যাত্রীদের সহায়তা করেন। রোদে পোড়া, বৃষ্টিতে ভেজা—কোনো কিছুই তাদের থামাতে পারে না।

শ্রমিকরা জানান, এখানে ৬৮টা সুপারভাইজার পোস্ট আছে। এই ৬৮টা সুপারভাইজার পোস্ট বর্তমান সম্পূর্ণ শূন্য। বর্তমান শ্রমিকদের দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি হচ্ছে না। এটা সবচেয়ে বড় জটিলতা। স্টেশনে যারা কাজ করছে, শুধু তাদের নাম আছে। সরকারের খাতায় নাম আছে কিন্তু সরকারের তরফ থেকে কোনো বেতন নেই।

আরও পড়ুন:

শ্রমিকদের নিরলস পরিশ্রমের মাঝেও রয়েছে কিছু না—পাওয়ার গল্প। নিরাপদ কর্ম পরিবেশ, ন্যায্য মজুরি কিংবা সামাজিক স্বীকৃতি—এসব এখনও অনেক ক্ষেত্রে অধরা। শ্রমিকদের জীবন এক কঠিন বাস্তবতার মধ্যে আবদ্ধ। তবুও তারা থামেন না। কারণ থেমে যাওয়ার মানে শুধু নিজের নয়—পুরো পরিবারকে থামিয়ে দেয়া।

সৈয়দপুরের বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক শাহ সুফী নুর মোহাম্মদ বলেন, শ্রমিকরা যেহেতু এখানে অনেক ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করে, এই ঝুঁকির জন্য তাদের ঝুঁকি ভাতাটা খুবই অত্যাবশ্যক। কিন্তু এই ঝুঁকি ভাতাটি আমাদের দাবি রয়েছে, নানা ধরনের করেসপন্ডিং রয়েছে, এই ঝুঁকি ভাতাটি এখন পর্যন্ত আমরা দিতে সক্ষম হইনি বা সরকার থেকে সে ধরনের অনুমোদন পাওয়া যায়নি।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন গবেষক ও শিক্ষক উমর ফারুক বলেন, ন্যূনতম মজুরি নিশ্চিত করা উচিত এবং একজন শ্রমিকের স্বাস্থ্যগত এবং তার যে নিরাপত্তা সেটিকে নিশ্চিত করে তাদের কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করাটা খুব জরুরি।

দেশের ৩২টি শ্রম কল্যাণ কেন্দ্রের একটি সৈয়দপুরে। শ্রমিক দিবসের আয়োজন করা ছাড়া, সত্যিকারের শ্রমিক কল্যাণে তেমন কোন কাজে আসে না সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটি।

লেদ মেশিনের অবিরাম ঘূর্ণন, রেলওয়ে কারখানার নিখুঁত হাতের কাজ আর স্টেশনের কুলিদের ক্লান্তিহীন পদচারণা—সব মিলিয়েই এগিয়ে চলছে বাংলাদেশের চাকা। এই মানুষগুলোর নাম জানা বা গল্প শোনা হয় না। শ্রমিক দিবস ঘিরে যখন নানা আলোচনা, তখন প্রশ্ন থেকে যায়—এই শ্রম কি শুধু এক দিনের স্বীকৃতিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে? না কি, শ্রমিকদের জীবনের মান উন্নয়নে আসবে বাস্তব পরিবর্তন?

ইএ