দখল-দূষণে মৃতপ্রায় চুয়াডাঙ্গার মাথাভাঙ্গা নদী

দূষণে মৃতপ্রায় চুয়াডাঙ্গায় মাথাভাঙ্গা নদী
দূষণে মৃতপ্রায় চুয়াডাঙ্গায় মাথাভাঙ্গা নদী | ছবি: এখন টিভি
0

চুয়াডাঙ্গার প্রধান নদী মাথাভাঙ্গা ভয়াবহ দূষণ ও দখলে অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। নদীর দুই পাড় দখল করে একের পর স্থাপনা তৈরি, ভরাট করে চাষাবাদ আর পৌর এলাকার ময়লা আবর্জনা সরাসরি নদীতে ফেলায় পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। যদিও কর্মকর্তারা বলছেন, মাথাভাঙ্গা রক্ষায় তারা কাজ করে যাচ্ছেন।

যে নদীতে দুরন্ত শিশু-কিশোরের দল কাটতো সাঁতার, চলতো ছোট, বড় ও মাঝারি নৌকা- সময়ের বিবর্তনে সেটি সংকুচিত হয়ে এখন আবর্জনার ভাগাড়ে। মাথাভাঙ্গা নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে উঠেছিল চুয়াডাঙ্গা শহর। সময়ের বিবর্তনে সেই শহরই এখন নদীটিকে প্রতিনিয়ত দূষিত করে তুলছে। এলাকার বাসিন্দারা জানান, যেমন করেই হোক এ নদীটি যেন প্রাণ ফিরে পায়।

পদ্মার অন্যতম এ শাখা, একসময়ের খরস্রোতা ও প্রাণবন্ত নদী এখন নাব্যতা হারিয়ে চিকন নালায় পরিণত হয়েছে। নদীতে বাঁধ, ও বাঁশের বেড়া দিয়ে মাছ চাষ করলেও প্রশাসন এ বিষয়ে একেবারেই উদাসীন। নদী দখলমুক্ত করতে পানি উন্নয়ন বোর্ড দায়সারা কাজ করছে বলে জানান স্থানীয়রা।

আরও পড়ুন:

মাথাভাঙ্গার বর্তমান অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন করতেই চোখে-মুখে হতাশার ছাপ স্থানীয়দের। জানালেন মাথাভাঙ্গা নদী বাঁচাও সংগঠনের শত শত কর্মসূচি আর ক্ষোভের কথা। এদিকে মাথাভাঙ্গা নদী নিয়ে বৃহৎ পরিকল্পনার কথা বলছেন এ কর্মকর্তা।

মাথাভাঙ্গা নদী বাঁচাও আন্দোলন কমিটি সভাপতি অধ্যক্ষ হামিদুল হক মুন্সি বলেন, ‘প্রশাসনের সঙ্গে আমরা প্রতিমাসে বৈঠক করি কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না। আর মাসের পর মাস পার হচ্ছে কিন্তু কোনো কিছু বাস্তবায়ন নেই।’

চুয়াডাঙ্গা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ আহমেদ বলেন, ‘নদীটি খনন করার জন্য একটি প্রকল্প গ্রহণ করার জন্য কাজ চলমান আছে।’

পরিবেশ রক্ষায় মাথাভাঙ্গার দূষণরোধে এখনই পদক্ষেপ না নিলে নদীর প্রাণচাঞ্চল্য, স্নিগ্ধতা ও জীব বৈচিত্র্য সংকটের মুখে পড়বে।

জেআর