মণিপুর সহিংসতা: মেইতেই ও কুকিদের দ্বন্দ্বে কাটছে না অচলাবস্থা

মণিপুরে সহিংসতা
মণিপুরে সহিংসতা | ছবি: আল জাজিরা
0

চলতি মাসের শুরুর দিকে এক বোমা বিস্ফোরণে দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনার জেরে আবারও উত্তপ্ত হয়েছে মণিপুর রাজ্য। কয়েক মাসের শান্তি অবস্থা ভেঙ্গে ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় এ রাজ্যে আবারো সহিংসতা জাগ্রত হলো।

মিয়ানমারের সঙ্গে দীর্ঘ ৪০০ কিলোমিটার (২৫০ মাইল) সীমান্তে জড়ানো এ রাজ্য প্রধানত উপাত্যকায় বাস করা সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু মেইতেই এবং পাহাড়ে বাস করা খ্রিস্টীয়প্রধান কুকি-জো সম্প্রদায়ে তিক্ততায় বিভক্ত।

সম্প্রদায়গুলোকে বিভক্ত রেখে এবং সংঘাত থামাতে মোদি সরকারের অক্ষমতার ব্যাপারে প্রশ্ন তুলে এ বহুল আলোচিত সংঘাতটি ৩ বছর ধরে চলা অন্তঃদ্বন্দ্বের সবচেয়ে নতুন অধ্যায়, যা এ রাজ্যকে বিভক্ত করেছে।

এসময় রাজ্যটি এক বছরের কেন্দ্রীয় শাসন দেখেছে। এসময় মোদির ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সেখানকার মুখ্যমন্ত্রীকে পরিবর্তন করে। তবে কোনো পদক্ষেপই এ রাজ্যটিতে চলা অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব থামাতে বা সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে শত বর্ষের সাম্প্রদায়িক সম্পর্ক ঠিক করতে সক্ষম হয়নি।

গত ৭ এপ্রিল পুনরায় শুরু হওয়া এ সহিংসতার ঘটনায় এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৭ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া এর সঙ্গে সম্পৃক্ত এক ডজনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মণিপুরে আসলে কী হয়েছিল?

গত ৭ এপ্রিল বিকেলে মেইতেই সম্প্রদায় মণিপুরের বিষ্ণুপুর জেলার ট্রংলাওবি আওয়াং লিকাই এলাকায় একটি বাড়িতে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে ৫ ও ৬ বছর বয়সের দুই শিশুর মৃত্যু হয় এবং আহত হয় তাদের মা। নিহত শিশুদের বাবা বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের একজন সৈনিক এবং ভারতীয় প্যারামিলিটারি ফোর্সের একজন সদস্য।

মেইতেই প্রধান এ ঘটনার সম্পূর্ণ দায় কুকি সম্প্রদায়ের যোদ্ধাদের ওপর চাপিয়ে দেন। তবে গ্রামটি কুকি সম্প্রদায়ের আওতাধীন এলাকার বাইরে বলে দাবি করে তাদের পক্ষ থেকে এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি অস্বীকার করা হয়।

যাই হোক, এ ঘটনার জেরে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে ভঙ্গুর শান্তি অবস্থা আবারও থেমে যায়। সংগঠনগুলো অবরোধের ডাক দেয়; নারী-পুরুষ ও তরুণরা বিক্ষোভ শুরু করেন এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে কয়েকজন তেলের ট্যাংকারেও আগুন ধরিয়ে দেন।

পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যকার এ সংঘর্ষের ঘটনায় কয়েক ডজন মানুষ আহত হন। বিক্ষোভকারীরা হত্যাকারীদের বিচার চেয়ে এ বিক্ষোভ করছিলেন। এ ঘটনায় প্রায় দুই সপ্তাহ যাবৎ বিষ্ণুপুর ও কুকির নিয়ন্ত্রণাধীন চুরাচাদপুরকে সংযুক্ত করা প্রধান সড়ক এখনও বন্ধ রয়েছে। এরপর প্যারামিলিটারি ফোর্সের গুলিতে আরও অন্তত ৩ জন বিক্ষোভকারী নিহতের ঘটনা ঘটে।

গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) মণিপুর রাজ্যের উখরুল অঞ্চলের একটি মহাসড়কে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে এক অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্যসহ দু’জন নিহত হন। এ ঘটনাটি তিন বছর ধরে চলতে থাকা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাকে আরও একবার জাগিয়ে দিলো।

এসএইচ