হুথিদের হুমকি; বাব আল-মান্দেব বন্ধের শঙ্কা

মানচিত্রে বাব আল-মান্দেব
মানচিত্রে বাব আল-মান্দেব | ছবি: সংগৃহীত
0

হরমুজ প্রণালির পর এবার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুট বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ হওয়ার মুখে। ইরান-যুদ্ধের জেরে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী প্রণালিটি বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দিয়েছে। বাব আল-মান্দেব এডেন উপসাগরকে আরব সাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। বিশ্বের সামুদ্রিক বাণিজ্যের প্রায় ১২ শতাংশ সরবরাহ এই প্রণালি দিয়ে হয়। কৌশলগত কারণে বাব আল-মান্দেব এখন ইরানের আরেকটি তুরুপের তাস হয়ে উঠেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে।

পশ্চিম এশিয়ার আরব উপদ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তের ইয়েমেন এবং আফ্রিকার হর্ন বা সোমালি উপদ্বীপের মধ্যবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত বাব আল-মান্দেব প্রণালি।

সর্বোচ্চ ৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ২৬ কিলোমিটার প্রস্থের এই সরু সামুদ্রিক পথটি এডেন উপসাগরকে আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ততম এই নৌপথ দিয়ে বৈশ্বিক বাণিজ্যের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়। প্রণালিটিকে অশ্রু বা কান্নার দ্বার নামে ডাকার পেছনের কারণ হিসেবে এর নৌচলাচলের বিপজ্জনক প্রকৃতিকে দায়ী করা হয়।

তবে সব কিছু ছাপিয়ে ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাব আল-মান্দেব কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল। গুরুত্বপূর্ণ নৌরুট হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকলে পারস্য উপসাগর থেকে ইউরোপ-এশিয়াতে তেল ও এলএনজি পরিবহনের জন্য বাব আল-মান্দেব ছাড়া আর কোনো জুতসই বিকল্প পথ নেই। সেক্ষেত্রে জাহাজগুলোকে আফ্রিকা ঘুরে অনেক দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ।

বাব আল-মান্দেব দিয়ে হরমুজ প্রণালির মতোই প্রতিদিন বিভিন্ন কনটেইনার জাহাজ, তেলের ট্যাঙ্কার বিভিন্ন মহাদেশে চলাচল করে। প্রতিদিন এই প্রণালি দিয়ে মিলিয়ন-মিলিয়ন ব্যারেল তেল পরিবহন হয়। যা বিশ্ব বাণিজ্যের প্রায় ১২ শতাংশ।

ইসরাইল-হামাস যুদ্ধের শুরুতে ইয়েমেনের হুথিরা লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোতে হামলা চালানো শুরু করলে অপরিশোধিত তেল এবং পেট্রোলিয়াম পরিবহন উল্লেখযোগ্য হারে কমে যায়। যা বিশ্ব বাণিজ্যের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। আর এবারের ইরান যুদ্ধে হরমুজ প্রণালি অনেকটা অকার্যকর হয়ে পড়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি খাতে ব্যাপক ধস নেমেছে। যার প্রভাব পড়ছে শেয়ারবাজার থেকে শুরু করে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে।

বাব আল-মান্দেবের ভূরাজনৈতিক গুরুত্বও অনেক। এটি ইরানের অন্যতম বড় কৌশলগত প্রক্সি শক্তি হুথি বিদ্রোহীরা নিয়ন্ত্রণ করে। ইরান সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ না নিয়েই হুথিদের মাধ্যমে তারা এই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। এটি ইরানের জন্য একটি অপ্রতিসম যুদ্ধ কৌশল, যার মাধ্যমে তারা নিজেদের আড়ালে রেখে পশ্চিমা স্বার্থে আঘাত করতে সক্ষম।

এরকম কিছু কৌশলগত কারণে বাব আল-মান্দেব ইরানের হাতে থাকা আরেক তুরুপের তাস। ইরানে শান্তি আলোচনা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হওয়ায় এটি দিয়ে তারা যেকোনো সময় প্রতিপক্ষ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে নিজেদের স্বার্থ নিয়ে দর কষাকষি শুরু করতে পারে।

এএম