উন্নয়নের নামে গত ১৭ বছর প্রতারণা হয়েছে: সংসদে এমপিরা

জাতীয় সংসদ অধিবেশন
জাতীয় সংসদ অধিবেশন | ছবি: বিটিভির সৌজন্যে
0

জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা বলেছেন, গত ১৭ বছর ধরে উন্নয়নের নামে স্বৈরাচারি শাসন আর ‘প্রতারণা’ হয়েছে। আজ (সোমবার, ২০ এপ্রিল) ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালর সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৭তম দিনে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।

সংসদ সদস্যরা বলেন, ‘গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে কোনো প্রকৃত উন্নয়ন হয়নি; বরং জনগণ উন্নয়নের নামে প্রতারণার শিকার হয়েছে।’

ফরিদপুর-৩ আসনের সরকারি দলের সদস্য নায়াব ইউসুফ আহমেদ বলেন, ‘স্বৈরাচারি শাসনামলে উন্নয়ন কার্যক্রম ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং উন্নয়নের নামে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ফরিদপুরকে বিভাগ করার ব্যাপক দাবি থাকলেও তৎকালীন সরকার তা বাস্তবায়ন করেনি।’

তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের সব সমস্যার সমাধান হবে।

আরও পড়ুন:

গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরুর দিনে ভাষণ দেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

পরে কার্যউপদেষ্টা কমিটি রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনার জন্য ৫০ ঘণ্টা নির্ধারণ করে। চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করেন এবং হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদ অপু তা সমর্থন করেন।

চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সরকারি দলের সদস্য জসিম উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘তার নির্বাচনি এলাকায় গত কয়েক দশকে কোনো উন্নয়ন হয়নি। চন্দনাইশ ও আংশিক সাতকানিয়া নিয়ে গঠিত তার আসনে প্রায় দুই লাখ মানুষ বসবাস করলেও সেখানে কোনো হাসপাতাল নেই।’

নরসিংদী-৫ আসনের সরকারি দলের সদস্য আশরাফ উদ্দিন বলেন, ‘স্বৈরাচার শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে “ঘৃণা প্রস্তাব” আনা উচিত, যা জনসমক্ষে নিন্দিত নেতার পরিণতি সম্পর্কে জাতির সামনে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।’

আরও পড়ুন:

ঝিনাইদহ-৪ আসনের বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য আবু তালেব জানান, ‘রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানানো তার পক্ষে সম্ভব নয়। তিনি মনে করেন, রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ দেয়া সমীচীন নয়, কারণ তিনি স্বৈরাচারের সহযোগী ছিলেন।

এছাড়া বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য এস এম ফয়সাল (হবিগঞ্জ-৪), ইমরান আহমেদ চৌধুরী (সিলেট-৬), সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম (দিনাজপুর-৩), নাসিরউদ্দিন আহমেদ (মৌলভীবাজার-১), এরশাদুল্লাহ (চট্টগ্রাম-৮), মো. জাহিদুল ইসলাম ঢালু (নওগাঁ-৫), মুশফিকুর রহমান (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪), এনামুল হক (চট্টগ্রাম-১২), লুৎফুল্লাহেল মাজেদ (ময়মনসিংহ-৮), কে এম বাবর (গোপালগঞ্জ-২), আতিকুল আলম (কুমিল্লা-৭) এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান (বেলাল) (রংপুর-৩), মতিয়ার রহমান (ঝিনাইদহ-৩), গোলাম রব্বানী (রংপুর-৫) ও নুরুল আমিন (রংপুর-৬) আলোচনায় অংশ নেন।—বাসস

এসএস