ডিজেলের দাম বাড়ায় দুশ্চিন্তায় কৃষক, বোরো চাষে লোকসানের শঙ্কা

সেচ দেয়া হচ্ছে জমিতে
সেচ দেয়া হচ্ছে জমিতে | ছবি: এখন টিভি
0

লিটারে ডিজেলের দাম ১৫ টাকা বাড়ায় উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার শঙ্কায় কয়েক লাখ প্রান্তিক কৃষক। বোরো চাষে লাভের মুখ না দেখার দুশ্চিন্তা এখন তাদের ওপর ভর করেছে। তবে কৃষি কর্মকর্তার দাবি, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় তেমন প্রভাব পড়বে না। কৃষি অর্থনীতিবিদরা বলছেন, উৎপাদন কমার পাশাপাশি খাদ্যশস্যের দাম বেড়ে যাবে।

মাঠে মাঠে বোরো ধানের শীষ বের হচ্ছে। এই সময়ে পর্যাপ্ত পানির প্রয়োজন, তবে ডিজেলের অভাবে তা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। প্রায় দুই মাস ধরে জ্বালানি তেলের সংকট চলমান। কয়েক ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়েও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ডিজেল। এরই মধ্যে আবার দাম বাড়ায় তা যেন মরার উপর খাড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকরা বলছেন, হাল চাষ থেকে সেচ, আবার কাটা থেকে মাড়াই পর্যন্ত ডিজেলের প্রয়োজন হয়। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ২০/৩০ টাকার অতিরিক্ত দামেও মিলছে না ডিজেল। এতে উৎপাদন খরচ ২৫ শতাংশ বাড়ায় লোকসানের শঙ্কায় তারা।

কৃষকরা জানান, ধান চাষ থেকে শুরু করে ধান কাটা সবকিছুতেই ডিজেল দরকার হয়। আরও দাম বাড়লে আরও ক্ষতি হয়ে যাবে।

আরও পড়ুন:

তবে টাঙ্গাইল জেলা কৃষি কর্মকর্তা বলছেন, ডিজেলের দাম বাড়ার প্রভাব তেমন পড়বে না। সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ দাম বাড়তে পারে।

টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আশেক পারভেজ বলেন, গ্রামের মানুষ যারা সবসময় তেল ব্যবহার করেন, কৃষক যারা পানি সেচের জন্য ব্যবহার করেন এবং সামনে যে আমন মৌসুমের ধান কাটা শুরু হবে। তখন প্রচুর পরিমাণে হারভেস্টার চালাতে হবে। হারভেস্টার চালাতে হলে সেখানে তেলের দরকার। তেলের দাম যখন এত বেশি হয়ে গেছে এখন সব কিছুরই দাম বেড়ে যাবে।

চলতি মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৭৬ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ লাখ ৯৬ হাজার ৪৭৯ মেট্রিক টন।

এদিকে, কৃষি অর্থনীতিবিদরা বলছেন, কেবল বোরো মৌসুম নয় সামনের আমন মৌসুমের উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটাবে। খাদ্য শস্যের দাম বাড়ার পাশাপাশি আমদানি নির্ভরতা বাড়বে বলে মনে করেন এই অর্থনীতিবিদ।

ইএ