নিশি অবসান প্রায় ওই পুরাতন বর্ষ হয় গত, আমি আজি ধূলিতলে এ জীর্ণ জীবন করিলাম নত। মেঘের দোলাচলে ভোরের আলো ছুতেই জেগে ওঠে শহর। সব পথ এসে মিশেছে রমনার বটমূলে। নতুন দিনের সাক্ষী হতে কণ্ঠে গান আর প্রত্যয় নিয়ে মানুষ এগোচ্ছে এক অভিন্ন যাত্রায়। পুরাতনকে বিদায়, নতুনের আহ্বান। বাংলা বর্ষবরণের ঐতিহ্যে অমানিশা কেটে সুরের ঐকতানে সজাগ রমনার বটমূল।
ষাটের দশক থেকে চড়াই-উতরাই পেরনো সংগঠনটি এবার চেয়েছিল শঙ্খাহীন কণ্ঠে গাইতে। গেয়ে উঠলো সমস্বরে ‘ভয় হতে তব অভয় মাঝে।’ শত প্রাণের সম্মিলিত স্বরে মূর্ত হলো এক শঙ্খাহীন বাংলাদেশ।
রমনার বটমূল আসা একজন দর্শনার্থী বলেন, ‘অনেক ভোর থেকে উঠেছি আয়োজনে আসার জন্য। কখন বের হব বাড়ি থেকে, রমনা পার্কে যাব, গান শুনব, সবার সঙ্গে একসঙ্গে মজা করবো।’
আরও পড়ুন:
দর্শনার্থীরা জানান, এ আয়োজনের মাধ্যমে শান্তি ও সমৃদ্ধি আশা করছেন; যেন সারা বছর আমাদের অনেক ভালো কাটে।
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, ‘দেশে আসার একটা বড় কারণ ছিলো যে পহেলা বৈশাখ, একুশে বইমেলা এগুলাতে অংশগ্রহণ করতে পারবো। খুব ভালো লাগছে। ছায়ানটের আয়োজন দারুণ হয়েছে এবং আমরা আশা করছি, একটা নতুন প্রত্যাশা নিয়ে আমরা বছর শুরু করব।’
প্রতিরোধের শক্তির পাশাপাশি এগিয়ে চলার প্রেরণা হয়ে ওঠে গান। মানুষের হাহাকার, অনিশ্চয়তার মেঘ ভেদ করে প্রশ্ন জাগে, কবে আসবে সেই কাঙ্ক্ষিত সুদিন?
জাতি হিসেবে বাঙালির অগ্রযাত্রায় সকল অপশক্তি রুখে দেয়ার কথা জানালেন ছায়ানট সাধারণ সম্পাদক।
ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমেদ লিসা বলেন, ‘এখন আমরা একটা ক্রান্তিকাল পেরিয়ে এমন একটা শ্বাস নেবার একটা পরিস্থিতিতে এসেছি, প্রত্যেকে মানুষ আজকে বোঝাই যায় যে তাদের বাঁধ ভেঙে গেছে। তারা খুব স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই অনুষ্ঠানে আসতে পেরেছেন। নির্ভয়ে আমরা যেমন গাইতে পেরেছি, তেমনি তারাও এসেছেন নির্ভয়ে সাহস দিতে এবং সাহস নিতে।’
‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির’— ছায়ানটের বর্ষবরণের এ মঞ্চ থেকে বাঙালির সেই শাশ্বত ঘোষণা এলো আরও একবার। আর এরই মধ্য দিয়ে উদার অসাম্প্রদায়িক ও নির্ভীক দেশের পথে এগিয়ে গেল বাঙালিরা।




