বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনূর আলম।
নিহত দিদারুল আলম পটিয়া উপজেলার কোলাগাঁও ইউনিয়নের কালারপোল মোহাম্মদ নগর এলাকার মৃত আহম্মেদ মিয়ার ছেলে। গ্রেপ্তার আবু তৈয়ব একই এলাকার মৃত কবির আহম্মেদের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দিদারুল ও তৈয়বের মধ্যে দীর্ঘদিনের পরিচয় ও বন্ধুত্ব ছিল। দিদারুল নগরীর রিয়াজউদ্দিন বাজারে একটি স্টেশনারি দোকান পরিচালনা করতেন, যেখানে তৈয়ব কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন।
আরও পড়ুন:
শুক্রবার রাতে দিদারুল আলম নগরীর বাকলিয়ার বাসায় ফেরার পথে মইজ্জ্যারটেক এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে ওঁত পেতে থাকা তৈয়ব তার ওপর হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে তার মৃত্যু হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চমেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই নুরুল আলম আশেক। তিনি জানান, রাত ৯টা ২০ মিনিটের দিকে তাকে হাসপাতালে আনা হয়।
এদিকে থানা পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার তৈয়ব দাবি করেছেন, দিদারুলের কাছে তার এক কোটি ৮০ লাখ টাকা পাওনা ছিল। এ টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে শুক্রবার রাতে দেখা হলে দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির মধ্যে দিদারুল পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান।
আরও পড়ুন:
তবে নিহতের স্বজন ও স্থানীয়দের দাবি ভিন্ন। তাদের ভাষ্য, দিদারুলের কাছে তৈয়বের কোনো টাকা পাওনা ছিল না। বরং দিদারুলই তাকে গ্রাম থেকে এনে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ দিয়েছিলেন।
পরে অস্বাভাবিক আচরণ ও অযৌক্তিক টাকা দাবির কারণে তাকে কাজ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। এ নিয়ে পটিয়ায় একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও তৈয়ব কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি বলে দাবি তাদের।
নিহতের চাচাতো ভাই আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘পূর্ব শত্রুতার জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।’
তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।
কর্ণফুলী থানার ওসি মো. শাহীনূর আলম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে পাওনা টাকার বিরোধকে কেন্দ্র করে ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানা গেছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা হবে।’





