উচ্চ সুদ আর কৃষি উপকরণ সংকটে দিশেহারা নেত্রকোণার কৃষক

নেত্রকোণার কৃষক
নেত্রকোণার কৃষক | ছবি: এখন টিভি
0

প্রতিবছর ধানের পাশাপাশি বিভিন্ন ফসলে হাজার কোটি টাকা আয় করে নেত্রকোণা জেলার কৃষকরা। তবে উচ্চ সুদে ঋণ, অনিয়ন্ত্রিত বাজার আর কৃষি উপকরণের সংকট-কৃষকদের বড় চ্যালেঞ্জ। এমন অবস্থায় কৃষকদের দাবি, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থাসহ সার ও বীজের সংকট নিরসন হোক। কৃষি বিভাগ বলছে, পর্যায়ক্রমে প্রান্তিক কৃষকদের সবাইকে কৃষক কার্ডের আওতায় আনা হবে।

নেত্রকোণা ধান উৎপাদনের অন্যতম জেলা। পাশাপাশি আবাদ হচ্ছে নানা রকম ফসল। তবে চাষ পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসলেও মাঠে কৃষকদের দুর্ভোগ এখনো কাটেনি।

জেলায় প্রতিবছর রোপা আমন ও বোরো-দুই ফসলে আয় হয় প্রায় সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা। যদিও চলতি বোরো মৌসুমকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন কৃষকরা। হাওরপাড়ের কৃষকদের একমাত্র ফসল ঘরে তুলতে-লড়াই করতে হয় প্রকৃতি ও বাজার অর্থনীতির সঙ্গে। উপরন্তু জ্বালানিসহ কৃষি উপকরণের দাম বাড়ায় ব্যয়ের বোঝা বাড়ে কৃষকের কাঁধে।

ব্যয় মেটাতে কৃষককে চড়া সুদে ঋণ নিতে হয় মহাজন এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে। ফসল ঘরে তোলার পর সেই অর্থ পরিশোধ করতেই নিঃস্ব হন অনেক কৃষক। এমন অবস্থায় সরকারের কৃষক কার্ডের আশায় আছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা।

আরও পড়ুন:

কার্ডের মাধ্যমে যদি কৃষকের হাতে টাকা পৌঁছানো যায় তাহলে কৃষকরা অনেক লাভবান হবে বলে জানান স্থানীয় কৃষকরা।

এদিকে কৃষকরা জানান, সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা হলে অনেক অনাবাদি জমি কৃষির আওতায় আসবে। এতে বাড়বে ফসলের পরিমাণ, লাভবান হবেন প্রান্তিক কৃষকরা।

এদিকে কৃষি বিভাগ বলছে, জেলায় কৃষক কার্ড কার্যক্রমে প্রান্তিক কৃষকদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে। কৃষকরা বিভিন্ন সেবার আওতায় আসবে।

নেত্রকোণা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক কৃষিবিদ রাকিবুল হাসান বলেন, ‘ভূমিহীন, প্রান্তিক কৃষকদের আমরা সব সময় অগ্রাধিকার দিয়ে থাকি।’

পাহাড় ও হাওর মিলে নেত্রকোনায় প্রায় ৪ লাখ ৫২ হাজার ৪৮৪টি কৃষি পরিবার রয়েছে। যার মধ্যে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষি পরিবার রয়েছে- ৩ লাখ ১২ হাজার।

জেআর