তিনি গতকাল (বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল) সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে বিষয়টি উত্থাপন করলে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম বিষয়টিকে ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও হৃদয়বিদারক’ উল্লেখ করে ইলিয়াস আলীর স্ত্রী সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে এ ব্যাপারে একটি লিখিত নোটিশ দেয়ার পরামর্শ দেন।
হুইপ দুলু সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলেন, ‘সম্প্রতি বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে ইলিয়াস আলীর গুম নিয়ে “বিস্ফোরক তথ্য” প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে— বনানী এলাকা থেকে তাকে তুলে নেয়ার পর একটি সদর দপ্তরে রাখা হয় এবং পরে ধলেশ্বরী নদীতে তার মরদেহ ফেলে দেয়া হয়।’
তার ভাষায়, ‘এ ঘটনায় যে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, তা আন্তর্জাতিক অপরাধ— মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল।’
আরও পড়ুন:
ইলিয়াস আলীর সঙ্গে নিজের সম্পর্কের কথা স্মরণ করে দুলু জানান, তিনি (ইলিয়াস) স্পিকার ও তার ঘনিষ্ঠ সহকর্মী ছিলেন এবং ব্যক্তিগতভাবেও তার সঙ্গে অনেক স্মৃতি জড়িত।
তিনি বলেন, ‘আজ তিনি বেঁচে থাকলে আমরা সবাই এই সংসদে একসঙ্গে থাকতে পারতাম।’
সংবাদপত্রের তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘১৭ থেকে ২০ মার্চের মধ্যে তাকে হত্যা করে ধলেশ্বরী নদীতে ফেলে দেয়া হয়েছে।’
দুলু বলেন, ‘মানুষ কতটা নিষ্ঠুর হলে এমন কাজ করতে পারে— এ প্রশ্নই সামনে আসে।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ ছাড়া এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি বলে তার ধারণা।
আরও পড়ুন:
হুইপের বক্তব্যের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিষয়টিকে দেশের বহুল আলোচিত ও সংবেদনশীল একটি ইস্যু হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ‘ইলিয়াস আলীর সহধর্মিণী ও সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা এরইমধ্যে বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করেছেন।’
স্পিকার তাকে আইনি ও সংসদীয় প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আপনি যদি এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে চান, তাহলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে একটি লিখিত নোটিশ দিতে পারেন।’
তিনি বলেন, ‘এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার বিচার প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালও সমসাময়িক ঘটনাগুলো নিয়ে কাজ করছে। ইলিয়াস আলী আমাদের অত্যন্ত প্রিয় সহকর্মী ও জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা ছিলেন। তার হত্যাকাণ্ড বিচারহীন থাকবে না— এই সংসদ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ বিষয়ে অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।’—বাসস





