জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ৫৬ বিলিয়ন রুপি ভর্তুকি ঘোষণা পাকিস্তানের

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ | ছবি: সংগৃহীত
0

ইরান যুদ্ধে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ কমে যাওয়ায় তেল সংকটে দেশে দেশে হাহাকার দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ৫৬ বিলিয়ন রুপির ভর্তুকির ঘোষণা দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। এর আগে ভোক্তা সুরক্ষায় আবগারি শুল্ক কমিয়েছে ভারত। তবুও ফিলিং স্টেশনগুলোতে ভিড়। সংকটে জর্জরিত থাইল্যান্ডকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে ইরান।

এটি ভারতের একটি ফিলিং স্টেশনের চিত্র। তেল সংকট থাকায় যানবাহন নিয়ে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে বহু মানুষকে। যে কোনো সময় তেল ফুরিয়ে যেতে পারে; শুরু হতে পারে লকডাউনও। এমন শঙ্কা থেকে বোতল, গ্যালন নিয়েও তেলের পাম্পে ভিড় করছেন মানুষ।

এক যাত্রী বলেন, মানুষ দিনরাত পেট্রোল পাম্পে অপেক্ষা করছে। অনেক মানুষও অসহায় হয়ে পড়েছে। আমাকে আমার গ্রামের বাড়িতে চলে যেতে হবে। কারণ শহরে এই ধরনের সংকটের মধ্যে টিকে থাকা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।

এমন পরিস্থিতিতে মুদ্রাস্ফীতির শঙ্কা ও ভোক্তাদের সুরক্ষা নিশ্চিতে ইতোমধ্যেই পেট্রোল ও ডিজেলের উপর আবগারি শুল্ক কমিয়েছে ভারত সরকার। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ উত্তেজনায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দেখা দিয়েছে হাহাকার। কারণ ভারতের ৪০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল আমদানি হয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে।

শুধু ভারত নয় একই কারণে ধুঁকছে বিশ্বের বহু দেশ। তবে সবচেয়ে বেশি হাহাকারের দৃশ্য ওঠে আসছে এশিয়ার দেশগুলোতে। এ তালিকায় আছে পাকিস্তানও। তাই দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ঠেকাতে ৫৬ বিলিয়ন রুপির ভর্তুকির ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ।

আরও পড়ুন:

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেন, আজ পাকিস্তানে প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ৫৪৪ রুপি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আপনারা তা পাচ্ছেন মাত্র ৩২২ রুপিতে। একইভাবে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ৭৯০ রুপি হওয়ার কথা ছিল। তবুও সরকার আপনাদেরকে প্রতি লিটার ডিজেল মাত্র ৩৩৫ রুপিতে সরবরাহ করছে। যাতে আপনাদের উপর কোনো বোঝা তৈরি না হয়।

সংকটে জ্বালানি খাতে জরুরি অবস্থা চলছে ফিলিপিন্সে। আপাতত ইরান যুদ্ধ থামার কোনো সম্ভাবনা না দেখায়; ইতোমধ্যেই রাষ্ট্রীয় কৌশলগত তেল মজুত ছাড়তে শুরু করেছে জাপান।

পেট্রোলের ক্রমবর্ধমান দাম বৃদ্ধিতে বিপাকে পরেছেন থাইল্যান্ডের কৃষকরা। যদিও হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ইরানের অনুমতি পেয়েছে থাইল্যান্ড। এর আগে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, চীন, ইরাক এবং রাশিয়ার জাহাজও চলাচল করতে পারবে বলে নিশ্চিত করেছে তেহরান।

তবুও বিশ্বজুড়ে চলমান জ্বালানি সংকটে আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে যে, শক্তির উৎসের জন্য পৃথিবী এখনো মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল। যা ১৯৭০-এর দশকের তেল সরবরাহ সংকটের স্মৃতিকে ফিরিয়ে এনেছে। কারণ ১৯৭৩ সালে হওয়া আরব-ইসরাইল যুদ্ধের সময়ও ইসরাইলকে সমর্থন করায় পশ্চিমা দেশগুলোর ওপর তেল নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল আরব দেশগুলো। এছাড়া ২০২২ সালে ইউক্রেনে রুশ অভিযানের সময়ও ১০০ ডলার ছাড়িয়েছিলো অপরিশোধিত তেলের দর।

ইএ