ঈদের ছুটিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের যে ১৬ নির্দেশনা

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় | ছবি : সংগৃহীত
0

আসন্ন ঈদুল ফিতর (Eid-ul-Fitr) উপলক্ষে দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে ১৬টি বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। গত ১৫ মার্চ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই নির্দেশনাগুলো প্রদান করা হয়।

একনজরে জরুরি সেবা ও নির্দেশনা

  • জরুরি বিভাগ ও ওটি: সার্বক্ষণিক চিকিৎসক ও সেবা চালু নিশ্চিত করতে হবে।
  • ওষুধ ও সরঞ্জামছুটির আগেই পর্যাপ্ত আইভি ফ্লুইড ও রি-এজেন্ট মজুত।
  • বেসরকারি ক্লিনিক: জরুরি ও প্রসূতি বিভাগ বন্ধ রাখা যাবে না।
  • রেফার প্রক্রিয়া: প্রাথমিক চিকিৎসা ও অ্যাম্বুলেন্স সুবিধা দিয়ে রেফার করতে হবে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ঈদের ছুটিতে জনগণের চিকিৎসাসেবা যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সেজন্য জরুরি বিভাগ (Emergency department) থেকে শুরু করে ল্যাব ও অপারেশন থিয়েটার সার্বক্ষণিক সচল রাখতে হবে। বিশেষ করে প্রসূতি সেবা ও জরুরি সার্জারির ক্ষেত্রে কোনো শিথিলতা প্রদর্শন করা যাবে না।

আরও পড়ুন:

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ১৬টি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা (The 16 Strategic Directives)

১. জরুরি বিভাগ: প্রয়োজনের অতিরিক্ত চিকিৎসক পদায়নের মাধ্যমে জরুরি বিভাগে সার্বক্ষণিক চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।

২. সব সেবা সচল: জরুরি বিভাগ, লেবার রুম, ইমার্জেন্সি ওটি, ল্যাব, ব্লাড ব্যাংক, সিটি স্ক্যান ও এমআরআই সার্বক্ষণিক চালু রাখতে হবে।

৩. জনবল সমন্বয়: কর্মস্থলে পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ঈদের আগে ও পরে সমন্বয় করে জনবলকে পর্যায়ক্রমে ছুটি দিতে হবে।

৪. ছুটি মঞ্জুর: প্রতিষ্ঠান প্রধান জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে এবং চিকিৎসাসেবা ঠিক রেখে ছুটি মঞ্জুর করতে পারবেন।

৫. সিভিল সার্জনের তদারকি: বিভাগীয় পরিচালক ও সিভিল সার্জনকে অবহিত করে অতি প্রয়োজনীয় জনবল সমন্বয় করা যাবে।

আরও পড়ুন:

৬. অন্তবিভাগ তদারকি: মেডিকেল কলেজ, জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে জরুরি ল্যাব ও এক্স-রে সেবা সার্বক্ষণিক চালু রাখতে হবে। উপজেলা পর্যায়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের 'অন কল' সেবা নিশ্চিত করতে হবে।

৭. ওষুধ ও সরঞ্জামের মজুত: ছুটির আগেই পর্যাপ্ত ওষুধ, আইভি ফ্লুইড, কেমিক্যাল রি-এজেন্ট ও সার্জিক্যাল সামগ্রী মজুত করতে হবে। স্টোর কিপারকে অবশ্যই নিজ জেলা বা উপজেলায় অবস্থান করতে হবে।

৮. অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস: অ্যাম্বুলেন্স সেবা সার্বক্ষণিক সচল রাখতে হবে।

৯. নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ: হাসপাতালের নিরাপত্তার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে আগাম পত্র দিতে হবে।

১০. অগ্নিনির্বাপণ সতর্কতা: সব স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিনির্বাপণ বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

১১. যোগাযোগ ও কুশল বিনিময়: প্রতিষ্ঠান প্রধান ও বিভাগীয় প্রধানরা সেবাপ্রদানকারী কর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখবেন।

১২. দায়িত্ব হস্তান্তর: প্রতিষ্ঠান প্রধান ছুটি নিলে বিধি অনুযায়ী কাউকে দায়িত্ব দিতে হবে এবং তার নাম ও নম্বর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।

১৩. উন্নত খাবার পরিবেশন: ঈদের দিন রোগীদের উন্নতমানের খাবার পরিবেশন তদারকি করতে হবে এবং রোগীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে হবে।

১৪. বহির্বিভাগ সেবা: হাসপাতালের বহির্বিভাগ (OPD) একাধারে ৭২ ঘণ্টার বেশি বন্ধ রাখা যাবে না।

১৫. বেসরকারি হাসপাতালের দায়বদ্ধতা:

  • ক) বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালকে রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের অধীনে জরুরি ও প্রসূতি বিভাগ খোলা রাখতে হবে।
  • খ) রোগী রেফার করার আগে প্রাথমিক চিকিৎসা ও যাত্রাপথের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।
  • গ) রেফারের ক্ষেত্রে অ্যাম্বুলেন্সের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে হবে।

১৬. কন্ট্রোলরুমকে অবহিতকরণ: যে কোনো দুর্যোগ বা অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুমকে তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে হবে।

আরও পড়ুন:

বিষয় (Subject) নির্দেশনা (Directives)
জরুরি বিভাগ ও ল্যাব জরুরি বিভাগ, লেবার রুম, ওটি, ল্যাব, ব্লাড ব্যাংক, সিটি স্ক্যান ও এমআরআই সার্বক্ষণিক চালু রাখতে হবে।
জনবল ও ছুটি ঈদের আগে-পরে সমন্বয় করে জনবলকে ছুটি দিতে হবে। জরুরি প্রয়োজনে নিজ জেলায় জনবল সমন্বয় করা যাবে।
ওষুধ ও সরঞ্জাম ছুটির আগেই পর্যাপ্ত ওষুধ, আইভি ফ্লুইড, ও সার্জিক্যাল সামগ্রী মজুত নিশ্চিত করতে হবে।
অ্যাম্বুলেন্স ও নিরাপত্তা অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস সার্বক্ষণিক সচল রাখতে হবে এবং নিরাপত্তার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তা নিতে হবে।
বেসরকারি হাসপাতাল রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের অধীনে জরুরি ও প্রসূতি বিভাগ অবশ্যই খোলা রাখতে হবে।
অন্যান্য বহির্বিভাগ ৭২ ঘণ্টার বেশি বন্ধ রাখা যাবে না। ঈদের দিন রোগীদের উন্নতমানের খাবার তদারকি করতে হবে।

এসআর