বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকিতে দেশের গম উৎপাদন

আলোচনা সভা
আলোচনা সভা | ছবি: এখন টিভি
0

দেশে ভুট্টা উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা এলেও গম উৎপাদন ক্রমেই ঝুঁকির মুখে পড়ছে। কৃষকদের অনাগ্রহ, প্রাকৃতিক সমস্যা এবং বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাবের কারণে দেশে গম উৎপাদন কমে যাচ্ছে। ফলে চাহিদা মেটাতে ক্রমেই আমদানির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে বাংলাদেশ।

বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, দেশে শুধু তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণেই ২০৫০ সালের মধ্যে গম উৎপাদন প্রায় ৩২ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।

আজ (বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ) বিকেলে দিনাজপুরে বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইন্সটিটিউটের মিলার মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় এসব তথ্য তুলে ধরেন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীরা।

প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক ড. মো. মাহফুজ বাজ্জাজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. মোবাশ্বের মোমেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন।

আরও পড়ুন:

বক্তারা জানান, দেশে ১৯৯৯ সালে সর্বোচ্চ গম উৎপাদন হয়েছিল, যা ছিল প্রায় দুই দশমিক এক মিলিয়ন টন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে গম চাষের জমি ধীরে ধীরে কমতে থাকে। বর্তমানে দেশে গমের চাহিদা প্রায় আট মিলিয়ন টন হলেও উৎপাদন হচ্ছে মাত্র প্রায় এক দশমিক চার মিলিয়ন টন। গত এক দশক ধরে দেশের দক্ষিণ অঞ্চলের অনেক পতিত জমি গম চাষের আওতায় আনা হলেও উৎপাদন তেমন একটা বাড়ানো যায়নি বলে বিজ্ঞানীরা তাদের মতামতে জানান।

এ কারণে দেশের চাহিদা পূরণ করতে প্রতিবছর প্রায় সাত মিলিয়ন টন গম বিদেশ থেকে আমদানি করতে হচ্ছে।

বক্তারা গম উৎপাদন বাড়াতে জলবায়ু সহনশীল নতুন জাত উদ্ভাবন, কৃষকদের উৎসাহিত করা এবং গম চাষের আওতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মো. মাহফুজ বাজ্জাজ বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গম চাষে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। আমরা এরইমধ্যে তাপসহনশীল কিছু জাত উদ্ভাবন করেছি এবং এই প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখবো। পাশাপাশি কৃষক পর্যায়ে আধুনিক প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মো. মোবাশ্বের মোমেন বলেন, ‘খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গম উৎপাদন অপরিহার্য। আমদানি নির্ভরতা কমাতে আমাদের নিজস্ব উৎপাদন বাড়াতে হবে। এক্ষেত্রে গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’

এসএস