গতকাল (বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির।
আইজিপি বলেন, ‘আমি একা এই সিদ্ধান্ত নেব না। এ বিষয়ে আমাদের হোম মিনিস্ট্রি আছে, সরকারপ্রধান আছে। তারা আলোচনা করে এমন সিদ্ধান্ত নেবেন, যা হয়তো সঠিক হবে।’
আইজিপি মনে করিয়ে দেন, শুধু নতুন পোশাক দেয়া যথেষ্ট নয়। আগে পুলিশের মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে। ‘যত ভালো পোশাকই দেয়া হোক না কেন, পুলিশরা যদি নিজেদের সমাজের সেবক হিসেবে মনে না করে, তবে কাজ হবে না। আমাদের ইতিবাচক মনোভাব থাকতে হবে। সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চাই এবং সমাজের সেবক হতে চাই।’
তিনি মোহাম্মদপুরকে ‘অপরাধপ্রবণ’ এলাকা উল্লেখ করে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ১৯৮৬ সালে আমি নিজেও এখানে ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছি।’
তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনাও উল্লেখ করেন। বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর এক নম্বর অ্যাসাইনমেন্ট হচ্ছে, সমাজে কোনো মাদক থাকবে না। আমাদের পুরো জেনারেশন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’
আইজিপি বলেন, ‘আমি দেখেছি প্রিন্সিপাল বাবা হাত ভাঙা। তিনি জানিয়েছেন, ‘‘আমার সন্তানকে মাদকের টাকা দিতে না বলায় আমার হাত ভেঙে দেয়া হয়েছে।’’ আমাদেরও সতর্ক থাকতে হবে; সন্তানরা কোথায়, কার সঙ্গে মিশছে তা খেয়াল রাখা দরকার।’
পুলিশ প্রধান আরও বলেন, ‘এলাকার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ এরইমধ্যে বিশেষ নজরদারি ও অভিযান জোরদার করেছে। কিশোর গ্যাং, ছিনতাই ও মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধ দমনে নিয়মিত টহল ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।’
আইজিপি আশা প্রকাশ করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশি তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। এলাকার পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হবে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, ‘রাজধানীতে ফুটপাত দখল হওয়ার পর এখন সড়কও দখলের শিকার। ফলে সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না থাকলে অর্থনীতি ও বিনিয়োগ দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’
আইজিপি বলেন, ‘সাধারণ মানুষ পুলিশের পাশে রয়েছে। অপরাধী যে-ই হোক কঠোরভাবে দমন করা হবে।’ হোয়াইট-কলার অপরাধীদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান তিনি।





