পানির জন্য লম্বা লাইন, দীর্ঘ অপেক্ষার পরও বেশ কিছু এলাকায় চাহিদা মতো পানি মিলছে না। রেশনিং করে পানি দিচ্ছে ওয়াসা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে নগরবাসী।
ওয়াসা বলছে, কাপ্তাই লেকে পানি কমায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের বাঁধ বন্ধ রাখছে কর্তৃপক্ষ। জোয়ারে লবণাক্ত পানি ঢুকে পড়ায় পতেঙ্গা, কাট্টলি, আকবরশাহ, উত্তর ও দক্ষিণ খুলশীসহ বেশ কিছু এলাকায় রেশনিং করে পানি দিতে হচ্ছে।
নগরীতে ওয়াসার গ্রাহক প্রায় ৯৬ হাজার। পানির চাহিদা দিনে ৬০ কোটি লিটার, বিপরীতে ওয়াসার সক্ষমতা ৫০ কোটি লিটার। হালদার পানিতে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় দৈনিক ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা পানি উত্তোলন বন্ধ রাখতে হচ্ছে। ফলে উৎপাদন কমেছে প্রায় ৩ থেকে ৪ কোটি লিটার।
ওয়াসা বলছে, মোহরা ও মদুনাঘাটে দুটি শোধনাগারে পানি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে গত ৩-৪ বছর ধরে এ সমস্যা হলেও, এবার ফেব্রুয়ারিতেই তা প্রকট আকার ধারণ করেছে।
আরও পড়ুন:
চট্টগ্রাম ওয়াসা প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম বলেন, ‘দুইটা ট্রিটমেন্ট প্লান্টই লবণাক্ততার কারণে বেশি অ্যাফেক্টেড হয়ে যায়। আর যখন লবণাক্ততা বেড়ে যায়, যেমন গত বর্ষার সময় ২৯ লিটার নদীর পানিতে লবণাক্ততা বেড়ে গিয়েছিল, যার ফলে তখন আমরা পানি নেই নাই।’
কাপ্তাই লেকে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কারণে বাঁধ, অন্যদিকে হালদায় রাবার ড্যামের বাঁধের কারণে নদী দুটির স্বাভাবিক প্রবাহে বিঘ্ন ঘটছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে জলজ জীববৈচিত্র হুমকির মুখে পড়ছে।
চবি হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরি সমন্বয়কারী মঞ্জুরুল কিবরিয়া বলেন, ‘আমরা ২০১৪ সালে মন্ত্রণালয়কে একটি রিপোর্ট জমা দিয়েছিলাম। আমরা প্রায় তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় ও সাতটি মন্ত্রণালয়, মোট দশটি সংস্থা পানির লবণাক্ততা বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করে মন্ত্রণালয়ে একটি রিপোর্ট জমা দিয়েছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি এই যে, ওই রিপোর্টের পরামর্শগুলোর কোনোটাই বাস্তবায়ন করা হয়নি।’
বৃষ্টিপাত শুরু হলে এ সংকট আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সংকটের স্থায়ী সমাধানে কাপ্তাই লেকের গভীরতা বাড়িয়ে পানি ধারণ ক্ষমতা বাড়ানো জরুরি বলছেন বিশেষজ্ঞরা।




