রাতের আঁধারে ট্রাকে ভরে বালু দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে ছোট-বড় পুকুর। অনুমতি ছাড়া পুকুর ভরাটে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বরিশালে অবাধেই চলছে কর্মযজ্ঞ। নগরীর কাউনিয়ার মনসা বাড়ি এলাকার প্রায় ২৫ শতাংশের পুকুর। শতভাগ ভরাট করা পুকুরের মালিক বলছেন, তার ভাই-বোনদের জমি ভাগ করে দেয়ার জন্য ভরাট করা হয়েছে। সিটি করপোরেশন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের চিঠির প্রেক্ষিতে সব কাগজপত্র জমা দেয়া হয়েছে বলে দাবি তার।
পুকুর মালিক মো. সাকির বলেন, ‘সিটি করপোরেশন থেকে আমাদেরকে নোটিশ দিয়েছিল। তারপর আমরা আমাদের সব পেপার জমা দিয়েছি। আগে ঘর করার সময় মাটি তুলেছিলাম, বর্তমানে বালু ফেলে ভরাট করার চিন্তা করছি।’
দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো না গেলে পুকুরগুলো ভরাট করা হবে বলে মনে করেন সচেতন মহল।
আরও পড়ুন:
বরিশাল বিভাগের পরিবেশ ও জনসুরক্ষা ফোরামের আহ্বায়ক শুভঙ্কর চক্রবর্তী বলেন, ‘সিটি করপোরেশন, পরিবেশ অধিদপ্তর কোনো ভূমিকা পালন করছে না। তাদেরকে বৃদ্ধা অঙ্গুলি দেখিয়ে আবার কখন কখন তাদের যোগসাজেসে এ কাজ করা হচ্ছে।’
সিটি করপোরেশন বলছে, অনুমোদন ছাড়া পুকুর ভরাটের খবর পেলে- কাজ বন্ধ করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। অথচ পুকুর ভরাটে বালু আনার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে- খোদ সিটি করপোরেশনের ট্রাক।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী বলেন, ‘পুকুর ভরাট করা সম্পূর্ণ নিষেধ। আমরা আমাদের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা চলছে। তারপরও জেলা প্রশাসক আছে, পরিবেশ অধিদপ্তর আছ তারা ও ব্যবস্থা নেবে আশা করি।’
পরিবেশ আইন-২০০০ অনুযায়ী, পুকুর-জলাশয় ভরাট দণ্ডনীয় অপরাধ। ব্যক্তিগত পুকুর ভরাট করতেও পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি লাগে। কাগজ-পত্রে গরমিল পাওয়া গেলে ভরাটকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান এ কর্মকর্তা।
বরিশালের পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুদ্দীন বলেন, ‘আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। প্রথমে আমরা নোটিশ দেয়ার ব্যবস্থা নিয়েছি, তারপর তার থেকে কাগজ পত্র চাই। এর পর যাচাই বাছাই শেষে যদি আমরা সন্তুষ্ট হতে না পারি, তারপর তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি।’
২০১০ সালের তথ্যানুযায়ী বরিশাল নগরীতে ৪৩৬টি পুকুর থাকার কথা, তবে নেই ২০০টিও। পুকুর-জলাশয়ের অস্তিত্ব রক্ষায় দখলের বিরুদ্ধে কাজ করতে হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।





