Recent event

পিলখানা হত্যাকাণ্ড দেশের সার্বভৌমত্ব নস্যাৎ করার অপপ্রয়াস: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান | ছবি: এখন টিভি
3

২০০৯ সালে পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর সদর দপ্তরে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হন ৫৭ সেনা কর্মকর্তা। আর এই দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনা ও উপস্থিতিতে আয়োজন করা হয় মতবিনিময় সভা। এসময় উপস্থিত হন প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সেনা প্রধানসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। উপস্থিত ছিলেন শহিদ পরিবারের সদস্যরাও। এসময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান, পিলখানা হত্যাকাণ্ড ছিল দেশের সার্বভৌমত্ব নস্যাৎ করার অপপ্রয়াস। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী জানান, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি অম্লান করে রাখতে বর্তমান সরকার কাজ করবে।

জাতীয় ‘শহিদ সেনা দিবস’ উপলক্ষে আজ (বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা সেনানিবাসে পিলখানায় সেনা হত্যাকাণ্ডে শহিদ পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় ও ইফতার অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এসময় শহিদ পরিবারের সদস্যরা এতো বছরেও বিচার না পাওয়ার আক্ষেপ করেন।

মেজর সালেহর সহধর্মিণী নাসরীন আহমেদ বলেন, ‘১৭ বছর ট্রমা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারিনি। বিচারের দাবি জানিয়েছি বারবার। কিন্তু এত বছরেও বিচার না পাওয়ার আক্ষেপ আছে।’

আরও পড়ুন:

মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদের ছেলে রাকিন আহমেদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান, পিলখানা হত্যার দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচার করতে হবে।’

সেনাপ্রধান জানান, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।

সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ‘২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারির মত আর কোনো দিন পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে বিষয়ে আমরা বদ্ধপরিকর। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌম রক্ষা করতে সব সময় কাজ করবে সেনাবাহিনী ও সীমান্ত রক্ষীবাহিনী।’

অনুষ্ঠানে তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনের কিছু অংশ তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, ‘পিলখানা ঘটনা কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। এই শহিদদের যথাযথ মর্যাদা সরকার দেবে। পিলখানা হত্যার ঘটনার তদন্ত কমিশনের রিপোর্টের গুরুত্বপূর্ণ অংশ প্রকাশের ব্যবস্থা করতে পারি। জাতীয় শহিদ সেনা দিবসটি সি থেকে এ গ্রেডে উন্নতি করা যায় কি না সে বিষয়ে পর্যালোচনা করা হবে।’

আরও পড়ুন:

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘তদন্ত কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করবে বর্তমান সরকার। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের বিচার করা হবে।’

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান, পিলখানার ঘটনা ছিলো সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পিলখানার শহিদদের গেজেট করে মর্যাদা না দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। আমরা দ্রুতই শহিদদের যথাযথ মর্যাদা দেয়ার ব্যবস্থা করবো। পিলখানার ঘটনা ছিল আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি। জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করা হবে। সীমান্ত বাহিনীকে আমরা আরও আধুনিক করবো।’

আরও পড়ুন:

দ্রুতই পিলখানার শহিদদের গেজেট করে যথাযথ মর্যাদা দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির স্মৃতি অম্লান করে রাখতে কাজ করবে বর্তমান সরকার।’

পরে ইফতার অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শহিদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

এসএস