Recent event

রোজায় সড়কে স্বস্তি ফেরাতে প্রয়োজন কঠোর পদক্ষেপ—বিশেষজ্ঞদের মত

রাজধানীর সড়কে যানজটের ছবি
রাজধানীর সড়কে যানজটের ছবি | ছবি: এখন টিভি
0

রমজানে তীব্র যানজট যেন নিয়মিত চিত্র। নগরীতে ইফতারের আগে বাড়ি ফেরার তাড়া কিংবা ঈদের কেনাকাটায় বেড়ে যায় যানজটের ভোগান্তি। পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোজায় সড়কে স্বস্তি ফেরাতে শুধু কাগজে-কলমে পরিকল্পনা নয়, বাস্তবে কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন। এদিকে, স্বস্তি ফেরাতে ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং অটোরিকশার দৌরাত্ম্য কমানোর ওপর জোর দিচ্ছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

রোজায় ইফতারের আগে গন্তব্যে ফেরার তাড়া থাকে সবারই। প্রতিবছর রমজান এলেই এমন সময় নগরবাসীকে ভুগতে হয় তীব্র যানজটে।

যানজট এড়াতে রোজায় নতুন নিয়মে অফিসসূচি নির্ধারিত হলেও বিকেল থেকে শুরু হয় বাড়তি চাপ। দুপুরের পর পথে বাড়তে থাকে গণপরিবহনের আনাগোনা, ধীর হয় গতি।

তবে পুরো রমজানজুড়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি কিছুটা স্বস্তির পরশ দিচ্ছে নগরবাসীকে। কিন্তু ঈদ এগিয়ে আসার সাথে সাথে কেনাকাটা ও বাড়ি ফেরাকে ঘিরে বাড়তে থাকে যানজট। আর এই যানজটেই নাকাল হতে হয় নগরবাসীকে।

এমন বাস্তবতায় পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সড়কে স্বস্তি ফেরাতে শুধু কাগজে-কলমে পরিকল্পনা নয়, বাস্তবে কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন। পুলিশ বিভাগকে পূর্ণ উদ্যমে কাজ করার পাশাপাশি পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের দায়িত্বশীল আচরণের তাগিদ বিশেষজ্ঞদের।

পরিবহন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. শামসুল হক বলেন, ‘এনফোর্সমেন্ট ছাড়া কিন্তু নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যতই সিদ্ধান্ত নেয়া হোক না কেন, সুন্দর সুন্দর সিদ্ধান্তগুলো থাকবে ডেস্কটপ এনভায়রনমেন্টে। বাস্তবে যদি অ্যাকশনেবল না হয়, অ্যাকশনে কেউ না যায়, তাহলে আমাদের সামনের দিকে এগোনোর সুযোগ নেই। আমাদের ইজিবাইকগুলো এবং ব্যাটারিচালিত রিকশা অগণিত হয়ে গেছে। আগে বিচরণের ক্ষেত্রে কিছুটা সুশৃঙ্খল ছিল, এখন অনিয়ন্ত্রিত সংখ্যা যেমন হয়েছে, ব্যবহারও অনিয়ন্ত্রিত হয়েছে। আমার মনে হয় কিছু একটা মেসেজ দেয়া উচিত।’

আরও পড়ুন:

ঈদকে কেন্দ্র করে নগরীর যানজট নিয়ন্ত্রণে সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানান সদ্য দায়িত্ব নেয়া সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী। নগরবাসীকে স্বস্তি দিতে ফুটপাত দখলমুক্ত করা ও অটোরিকশার দৌরাত্ম্য কমানোর দিকে জোর দেন তিনি। পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ট্রাফিক বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে সাথে নিয়ে দীর্ঘমেয়াদে উদ্যোগ নেয়ারও প্রতিশ্রুতি তার।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘সিটি করপোরেশন দুটি আছে। তাদের সঙ্গে আমরা একটা যৌথ মিটিং করে ব্যবস্থা নিতে হবে। যানজট নিরসন করতে হলে দুটি জিনিস একান্ত প্রয়োজন—একটা হচ্ছে ফুটপাত দখলমুক্ত করা, আরেকটা হচ্ছে অটোরিকশার দৌরাত্ম্য-যত্রতত্র স্বেচ্ছাচারী ব্যবহার কোনো সভ্য দেশে চলতে পারে না, সভ্য শহরে কাম্য নয়। এর সঙ্গে ট্রাফিক বিভাগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যাপারও আছে। কারণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এখানে ভূমিকা রাখতে হবে এবং এখানে রাজনৈতিক স্বদিচ্ছার ব্যাপারও আছে।’

নগরীর যানজট কমাতে গণপরিবহনকে সুশৃঙ্খল করার পাশাপাশি অবৈধ অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণের ওপরও জোর দেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।

এসএইচ