Recent event

বিপর্যস্ত ফরিদপুরের একমাত্র নদীবন্দর, রপ্তানিতে পড়ছে বড় প্রভাব

ফরিদপুরের একমাত্র নদীবন্দর
ফরিদপুরের একমাত্র নদীবন্দর | ছবি: এখন টিভি
0

নাব্য সংকট আর নদীর বুকে জেগে ওঠা চরের কারণে কার্যত বিপর্যস্ত ফরিদপুরের একমাত্র নদীবন্দর। নদীর পানি কমে যাওয়ায় বড় নৌযান এখন আর সহজে ভিড়তে পারছে না ঘাটে। ফলে পণ্য আনা–নেয়ায় তৈরি হয়েছে চরম দুর্ভোগ। এই সংকট শুধু বন্দরের কর্মী ও ব্যবসায়ীদের জীবনেই প্রভাব ফেলছে না বরং জাতীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। জেলার উৎপাদিত পাট এই বন্দর হয়েই চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে রপ্তানি হয়। সিলেট থেকে কয়লা ও বালু, নারায়ণগঞ্জ থেকে সিমেন্টবাহী জাহাজ এই বন্দর থেকে খালাস হয়।

২০১৫ সালে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী ফরিদপুর সিএন্ডবি ঘাটকে নদীবন্দর ঘোষণা করা হয়। পরে ২০১৭ সালে দ্বিতীয় শ্রেণীতে উন্নীত হয় বন্দরটি। চট্টগ্রাম ও মংলা সমুদ্রবন্দর এবং সিলেট, নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লাসহ বিভিন্ন জেলার সাথে সরাসরি বাণিজ্যিক সংযোগ স্থাপনে বন্দরটির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বন্দরটি ২ কোটি ৮৫ লাখ টাকার চুক্তিতে ইজারা দেওয়া হয় মেসার্স মজিবর রহমানকে। বর্ষা মৌসুমে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪ থেকে ৫ কোটি টাকার পণ্য আমদানি-রপ্তানি হলেও শুষ্ক মৌসুমে নদীতে পানি কমে যাওয়ায় ডুবো চর ও নদীর নাব্য সংকটে নৌযান চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। তাই বন্দরের প্রতি সরকারের নজর ফেরানোর দাবি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে জানান, সরকার চাইলেই এখানে ব্যবস্থা নিতে পারে। কিন্তু ইচ্ছা করেই এখানে কেউ ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

বন্দর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরাসরি নৌযান ঘাটে না এসে মাঝনদীতে নোঙর করে পণ্য ছোট নৌকায় আনতে হচ্ছে বন্দরে। এতে সময় ও খরচ—দুটিই বেড়েছে কয়েকগুণ।

আরও পড়ুন:

ব্যবসায়ীরা জানান, নদীতে ট্রলার চলে না ৪ মাসের মতো। সমস্ত ট্রলারগুলো থেকে যাচ্ছে। মালামাল কেটে কেটে নিয়ে আসতে হয় অন্যান্য জায়গা থেকে। এতে ব্যবসার অনেক ক্ষতি হচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিএ জানায়, চাহিদা অনুপাতে ড্রেজিং না হওয়ায় নদীর নাব্যতা কম। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জন্য বন্দরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় চেষ্টা চলছে এর নাব্যতা ফিরিয়ে আনার।

ফরিদপুরের বিআইডব্লিউটিএ পোর্ট অফিসার পলাশ রায় বলেন, ‘আমরা অলরেডি বিআইডব্লিউটিএ থেকে চারটি ট্রেজার এনে খনন শুরু করেছি। ইতোমধ্যে ২৩ কিলোমিটার জায়গায় আমাদের ডুবোচর জেগে ওঠেছে। আমরা ইতোমধ্যে ৬ কিলোমিটার খনন করে নাব্যতা সংকট নিরসন করে ফেলেছি।’

এদিকে, জেলা প্রশাসন জানায়, এরইমধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বন্দরের সমস্যার কথা বিআইডব্লিউটিএ-কে জানানো হয়েছে।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্লা বলেন, ‘আমাদের নৌ চ্যানারটি বিভিন্ন জায়গায় ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে নৌ চলাচলের স্বাভাবিকতা নষ্ট হচ্ছে। আমরা এরইমধ্যে বলেছি বিআইডব্লিউটিএ-কে। তারা খননের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’

নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত ড্রেজিংয়ের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা। তা না হলে অর্থনৈতিকভাবে আরও ক্ষতির মুখে পড়বে এই অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য।

ইএ