Recent event

তারেক রহমানকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ শাহবাজ শরিফের

তারেক রহমান ও শাহবাজ শরিফ
তারেক রহমান ও শাহবাজ শরিফ | ছবি: সংগৃহীত
0

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। গতকাল (মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি) পাকিস্তানের ফেডারেল মন্ত্রী আহসান ইকবাল তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় এ আমন্ত্রণ জানান। পাকিস্তানের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে বিষয়টি শেয়ার করা হয়েছে।

পোস্টে বলা হয়, ফেডারেল মন্ত্রী অধ্যাপক আহসান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তিনি দুই দেশের মধ্যে সব ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের প্রতিনিধি হিসেবে ঢাকায় সরকারি সফরের সময় ফেডারেল পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও বিশেষ উদ্যোগ মন্ত্রী অধ্যাপক আহসান ইকবাল শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা বার্তা জানান। এছাড়া, তিনি পাকিস্তানে আনুষ্ঠানিক সফরের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণও জানান শাহবাজ শরিফের পক্ষ থেকে।

বৈঠকে সব খাতে সম্পর্ক জোরদার করার ব্যাপারে উভয় দেশের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে, বিশেষ করে বাণিজ্য, সমুদ্র সংযোগ, শিল্প সহযোগিতা, যুব উন্নয়ন, ডিজিটাল অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি এবং একাডেমিক অংশীদারত্ব। 

উভয় পক্ষই সম্মত হয়েছে যে, তাদের তরুণ জনসংখ্যা একটি ঐতিহাসিক সুযোগ উপস্থাপন করে এবং দক্ষতা, উদ্ভাবন এবং উদ্যোক্তা বিনিয়োগ এই জনশক্তিকে অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে রূপান্তরিত করতে পারে। তারা শেয়ার করা উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য সাপ্লাই চেইন একীকরণ, রপ্তানি বৃদ্ধি, এবং এআই-সহ উদীয়মান প্রযুক্তিতে সহযোগিতা প্রসারিত করার ওপর জোর দেন।

আহসান ইকবাল পাকিস্তান-বাংলাদেশ নলেজ করিডর উদ্যোগকে তুলে ধরেন, যা উচ্চ শিক্ষা, গবেষণা, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং ছাত্র বিনিময়কে উন্নীত করে, এবং আল্লামা ইকবালের ১৫০তম জন্মবার্ষিকী উদ্‌যাপন সহ সাংস্কৃতিক সহযোগিতা পুনরুজ্জীবিত করার প্রস্তাব দেয়।

আরও পড়ুন:

বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং পাকিস্তানের মন্ত্রী বাস্তব সহযোগিতা ত্বরান্বিত করতে, আঞ্চলিক যোগাযোগ শক্তিশালী করতে এবং দক্ষিণ এশিয়ার জনগণের জন্য সমৃদ্ধি উন্মুক্ত করতে ভূ-অর্থনৈতিক সহযোগিতা উন্নীত করার একটি যৌথ সংকল্পের সঙ্গে সমাপ্তি করেন।

এর আগে, এক আনুষ্ঠানিক চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। চিঠিতে নরেন্দ্র মোদি লেখেন, ‘মাননীয়, বাংলাদেশে সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের বিজয় এবং বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আপনার নিয়োগের জন্য আপনাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি। আপনি যখন এই উচ্চ দায়িত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হচ্ছেন, তখন আপনার সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করছি।

‘আপনার এই বিজয় বাংলাদেশের জনগণের আপনার নেতৃত্বের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ এবং দেশকে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেয়ার আপনার দর্শনের প্রতি তাদের সমর্থনের প্রমাণ।’

মোদি আরও লেখেন, ‘ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী হিসেবে ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক গভীর বন্ধুত্বের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে, যার শিকড় আমাদের অভিন্ন ইতিহাস, সাংস্কৃতিক বন্ধন এবং শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য আমাদের জনগণের অভিন্ন আকাঙ্ক্ষায় প্রোথিত। আমাদের নিজ নিজ উন্নয়ন অগ্রাধিকারের মধ্যে দৃঢ় মিল ভবিষ্যৎ সহযোগিতার পথনির্দেশক হিসেবে কাজ করবে।

‘দ্বিপক্ষীয় বহুমাত্রিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করাসহ আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং যোগাযোগ, বাণিজ্য, প্রযুক্তি, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, জ্বালানি, স্বাস্থ্যসেবায় আপনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি। 

পাশাপাশি দুই দেশের জনগণের মধ্যে সুসম্পর্ক ও সাংস্কৃতিক বিনিময়সহ বিস্তৃত ক্ষেত্রে আমাদের অভিন্ন লক্ষ্য এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি। দ্রুত বিকাশমান দুই অর্থনীতি ও উদীয়মান সমাজ হিসেবে ভারত ও বাংলাদেশ একে অপরের টেকসই প্রবৃদ্ধির অনুঘটক হতে পারে, পারস্পরিক নিরাপত্তা জোরদার করতে পারে এবং যৌথ সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সক্ষম হতে পারে।

‘আমি এ সুযোগে আপনাকে, ডা. জুবাইদা রহমান এবং আপনার কন্যা জাইমাকে সুবিধাজনক সময়ে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। ভারতে আপনাদের জন্য উষ্ণ অভ্যর্থনা অপেক্ষা করছে। মাননীয়, আপনার সুস্বাস্থ্য ও সফলতা এবং বাংলাদেশের জনগণের অব্যাহত অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করে আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা গ্রহণ করবেন।’

এএইচ