পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ পিটিআই দলের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের চোখের দৃষ্টিশক্তি ও চিকিৎসা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তিনি সিআরভিও নামক চোখের এক জটিল সমস্যায় ভুগছেন। রোগটি সাধারণত বয়স্কদের হয়। কারাবন্দি ইমরান খান ডান চোখের ৮৫ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও পাকিস্তান সরকার দাবি করছে, তার অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। আদিয়ালা কারাগারে পাঁচ সদস্যের একটি চিকিৎসক দল ইমরানের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় নিয়োজিত আছেন।
তবে পিটিআই সমর্থক ও নেতাকর্মীদের অভিযোগ, ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে শেহবাজ শরীফ সরকার। জেল থেকে আল-শিফা আই ট্রাস্ট হাসপাতালে স্থানান্তরের দাবিতে বিক্ষোভে নামে ইমরানের সমর্থকেরা। মানবিক ও চিকিৎসাজনিত কারণে ইমরান খানের মুক্তির দাবিও উঠে।
ইমরানের মুক্তি ও পিটিআই-এর সঙ্গে পাক সরকারের চুক্তির বিষয়ে বেশকিছু প্রতিবেদন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এসব প্রতিবেদনকে অপপ্রচার বলে উড়িয়ে দিয়ে দেশটির তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বলেন, পিটিআই-এর সঙ্গে কোনো ধরনের চুক্তি বা বিশেষ ছাড় দেয়ার প্রশ্নই উঠে না। ইমরানের চোখের অবস্থা গুরুতর স্বীকার করলেও, সরকার যথাযথ চিকিৎসা করছে বলে দাবি করেন তথ্যমন্ত্রী।
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বলেন, ‘পিটিআই-এর সঙ্গে কোনো ধরনের চুক্তির প্রশ্নই উঠে না। এটি ইমরান খানের স্বাস্থ্যগত সমস্যার বিষয়। মেডিক্যাল ইস্যুর বিষয়টি নিয়ে রাজনীতি করার সুযোগ নেই। তার জন্য যথাযথ চিকিৎসা ব্যবস্থা করা সরকারের দায়িত্ব এবং সরকার সেটি করে যাচ্ছে।’
আরও পড়ুন:
তথ্যমন্ত্রী আরও জানান, ইমরান খান সুস্থ আছেন এবং তার স্বাস্থ্যের বিষয়ে দলের নেতাদের অবহিত করা হয়েছে। পিটিআই এটি নিয়ে রাজনীতি করছে বলেও অভিযোগ তার। যদিও খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি তথ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের বিরোধিতা করে বলেন, তাদের দাবি ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। মেডিকেল রিপোর্ট নয়, বরং ইমরানের ব্যক্তিগত চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ এবং পরিবারের সদস্যদের সাথে দেখা করার অনুমতি চান তারা।
খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রীর সোহেল আফ্রিদি বলেন, ‘যে প্রতিবেদনের কথা বলা হয়েছে সেখানে কোনো ভিডিও প্রকাশ করা হয়নি। এমনকি ইমরান খানের পক্ষ থেকেও কোনো ধরনের বিবৃতি দেয়া হয়নি। পাকিস্তান সরকার একটি ভুয়া রিপোর্ট তৈরি করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্তিতে ফেলেছে। তাদের এসব প্রতিবেদনের ওপর আমাদের কোনো ভরসা নেই।’
আসিম ইউসুফ, ইমরান খানের ব্যক্তিগত চিকিৎসক বলেন, ‘যদিও পাকিস্তান সরকার দাবি করছে ইমরান খানের অবস্থার উন্নতি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা দেখা করার সুযোগ দেয়া হয়নি। যার কারণে এই প্রতিবেদন গ্রহণ বা বর্জন করাও মুশকিল। এমন অবস্থায় কর্তৃপক্ষের কাছে আহ্বান জানান, যেনো ব্যক্তিগত চিকিৎসক হিসেবে তাকে ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেয়া হয়।’
এদিকে, খাইবার পাখতুনখোয়ার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী আলী আমিন গন্ডাপুর বলেছেন, ইমরান খানের মুক্তির জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি জোর প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। তার মতে, সেনাপ্রধানের সঙ্গে পিটিআই-এর আলোচনার পথ একমাত্র নকভিই তৈরি করতে পারবেন।
পিটিআই জানিয়েছে, ইমরান খানের স্বাস্থ্যগত অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত থাকায় এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা কমার লক্ষণ না থাকায় তাদের অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। এদিকে, ইমরান খানের বিশেষ সহকারী নিউইয়র্কে পিটিআই-এর পক্ষে বিশাল সমাবেশ করেন।





