ভোট পরবর্তী জয়ী-পরাজিত প্রার্থীদের শুভেচ্ছা বিনিময়; সংঘাত পেরিয়ে সৌহার্দ্যের বার্তা

জয়ী-পরাজিত প্রার্থীদের শুভেচ্ছা বিনিময়
জয়ী-পরাজিত প্রার্থীদের শুভেচ্ছা বিনিময় | ছবি: এখন টিভি
0

জয়ের পর বিরোধী দলের নেতাদের বাসায় গিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শুধু কেন্দ্রই নয় বেশ কিছু আসনে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন জয়ী ও পরাজিত প্রার্থীরা। যদিও ভোট পরবর্তী কিছু সংঘাতের খবর এসেছে, বিচ্ছিন্নভাবে। তবে সেই সহিংস ক্ষোভ-অভিমান সৌহার্দ্যের সৌরভে বিষবাষ্প ছড়াতে পারবে না বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

প্রকৃতির মতো রাজনীতিতেও এখন দখিন হাওয়া। এ ফাগুনে রাজনীতিতে ফুটেছে সৌহার্দ্যের ফুল। জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সেই সৌহার্দ্যের পুষ্প নিয়ে হাজির হলেন ১১ দলীয় জোট নেতা শফিকুর রহমানের বাড়ি । বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম এমন সৌহার্দ্য । ভোটের পর সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা গেলেন বিরোধী দলীয় নেতার বাড়ি । সৌরভ বঞ্চিত হননি এনসিপির নাহিদ রহমান।

সৌহার্দ্যের ফুল শুধু এবার কেন্দ্রকে সুরভিত করেনি । জাতীয় সংসদের বেশ কিছু আসনে বিজিত প্রার্থী ও পরাজিত প্রার্থীর মধ্যে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং এক সঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার দেখা গেছে। যা ভোটার বা সাধারণ জনগণের মধ্যে উড়িয়েছে সম্প্রীতির হাওয়া ।

গুমের শিকার বিএনপি নেতা সুমন ও ঢাকা-১৪ আসনে নির্বাচনি প্রতিপক্ষ সানজিদা তুলির বাড়িতে ব্যারিস্টার আরমানের এ অশ্রুসিক্ত আগমন যেমন আবেগঘন করেছে দেশের মানুষকে, তেমনি বিজয় লাভের পর পর হবিগঞ্জে বিএনপি প্রার্থী জি কে গউছ, পরাজিত জামায়াত প্রার্থী কাজী মহসিন আহমেদের বাসায় গিয়ে মিষ্টি মুখ।

আরও পড়ুন:

পটুয়াখালীর বাউফলে নির্বাচিত জামায়াতের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মাসুদ ফুল দিয়ে বিএনপি নেতার বরণ। মৌলভীবাজারে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মো. আব্দুল মান্নানের বাড়িতে মিষ্টি ও ফল নিয়ে বিএনপি নেতার হাজির হওয়ার দৃশ্য প্রশংসা কুড়িয়েছে সাধারণ মানুষের। একই চিত্র ছিল উত্তর-দক্ষিণের জনপদে বেশিরভাগ আসনে।

যে দেশে নির্বাচন মানেই সহিংসতা, প্রাণহানি, সেখানে কোনো জীবনহানি ছাড়াই একদিকে যেমন অনুষ্ঠিত হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, তেমনি বিগত পাঁচ দশকে নির্বাচনে প্রতিপক্ষের প্রতি যে ক্রুর দৃষ্টি ছিল রাজনীতিতে, তার বিপরীতে গিয়ে এবার প্রচারণা থেকে ভোটের দিন, আর ভোট-পরবর্তী ময়দানেও দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। ক্ষোভ, হিংসার বাইরে একসঙ্গে দেশ গড়ার যে প্রত্যয় ছিল জুলাইয়ে, এই সৌহার্দ্য তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘নির্বাচনের পরও অনেকেই বলছিলেন তারা সহযোগিতা করবেন। যারা জিতেছেন তারা বলছেন সবাইকে নিয়েই তারা কাজ করবেন। যদি এমন পরিবেশ থাকে তাহলে একটি সুস্থ ধারার রাজনীতির দিকে আমরা যেতে পারবো।’

যদিও ভোট পরবর্তী কিছু সংঘাতের খবর আসছে, বিচ্ছিন্ন ভাবে । তবে সেই সহিংস ক্ষোভ-অভিমান সৌহার্দ্যের সৌরভে বিষবাষ্প ছড়াতে পারেনি, পারবেনা বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা

মহিউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, ‘নির্বাচনের আগে সবাই বলছিলেন আমরা নয়া বন্দবস্ত চাই। পুরনো ধারার রাজনীতিতে যাবো না। সুতরাং এ কথাগুলো যদি কাজে পরিণত করতে পারে তাহলে আমাদের জন্য সুযোগ হবে রাজনীতিতে নতুন ধারা সৃষ্টি করার।’

জাতীয় সংসদ সরকার ও বিরোধীদলের কণ্ঠে মুখর হলে, মাঠের অসহিষ্ণুতা বিলীন হবে , এমন দৃঢ় আভাস বিশ্লেষকদের ।

এফএস