ইউক্রেনের দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ন্যাশনাল অ্যান্টি-করাপশন ব্যুরো (নাবু) জানিয়েছে, সীমান্ত অতিক্রমের সময় দেশটির সাবেক জ্বালানিমন্ত্রী গেরমান গালুশচেঙ্কোকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত বছর জ্বালানি খাতে বড় ধরনের দুর্নীতিকাণ্ডের পর তিনি পদত্যাগ করেছিলেন।
নাবু এক বিবৃতিতে জানায়, ‘আজ রাষ্ট্রীয় সীমান্ত পার হওয়ার সময় “মিডাস” মামলার আওতায় সাবেক জ্বালানিমন্ত্রীকে আটক করা হয়েছে।’ তবে বিবৃতিতে গালুশচেঙ্কোর নাম উল্লেখ করা হয়নি। তিনি গত বছর ইউক্রেনের জ্বালানিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন এবং ২০২৫ এর নভেম্বর পদত্যাগ করেন।
সংস্থাটি আরও জানায়, আইনি বিধান ও আদালতের অনুমতি অনুযায়ী প্রাথমিক তদন্ত কার্যক্রম চলছে। ২০২৫ সালে জ্বালানি খাতে অর্থ পাচারের একটি বড় ষড়যন্ত্র উদ্ঘাটনের পর একাধিক মন্ত্রী পদত্যাগ করেন। তদন্তকারীদের ধারণা, এই ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে ছিলেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির এক ঘনিষ্ঠ সহযোগী।
আরও পড়ুন:
ইউক্রেনের বিশেষায়িত অ্যান্টি-করাপশন প্রসিকিউটরস অফিস (এসএপিও) জানিয়েছে, প্রায় ১০ কোটি ডলারের এই দুর্নীতির পরিকল্পনা করেছিলেন ব্যবসায়ী তিমুর মিন্দিচ।
এসএপিওর তদন্তকারীদের দাবি, গালুশচেঙ্কো জ্বালানি খাতে অবৈধ অর্থপ্রবাহ পরিচালনায় মিন্দিচকে সহায়তা করেছিলেন। এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠান এনারগোআতোমের সঙ্গে কাজ করা ঠিকাদারদের চুক্তি বাতিল বা অর্থ পরিশোধে বিলম্ব এড়াতে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ ঘুষ দিতে বাধ্য করা হতো।
এ কেলেঙ্কারির জেরে ইউক্রেনের আগের দুই জ্বালানিমন্ত্রীও পদত্যাগ করেন। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির প্রধান কার্যালয়ের প্রধানও পদ হারান। তবে ওই দুই মন্ত্রী ও প্রধান কার্যালয়ের সাবেক প্রধান সবাই দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ পাওয়ার লক্ষ্য সামনে রেখে ইউক্রেন দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইকে অন্যতম প্রধান সংস্কার কর্মসূচি হিসেবে নিয়েছে। দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির সমস্যা কাটিয়ে ওঠাই এখন দেশটির বড় চ্যালেঞ্জ বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষরা।





