সারজিস বলেন, ‘এই একটা নির্বাচনের জন্য হাজার ভাই জীবন দিয়েছে, ওসমান হাদি জীবন দিয়েছে, এখনও রক্ত ঝরছে। কেউ যদি একটা ভোট চুরি করতে চায় সবাই মাথায় রাখবেন আমাদের রক্ত আর জীবনের উপর দিয়ে যেন সেই ভোট চুরি করতে হয়। আমরা বেঁচে থাকতে কাউকে একটা ভোট চুরি করতে দিব না। যেই হাত একটা ভোট চুরি করতে চাইবে সেই হাতকে সেইখান থেকে সরাসরি হাসপাতালে যেতে হবে, আর কোনো উপায় থাকবে না।’
একটি রাজনৈতিক দলের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘এরা এত বড় ভণ্ড এবং প্রতারক, যারা এখন জামায়াতে ইসলামীর সাথে ১১ দল ও এনসিপির জোটকে নানাভাবে কথা বলে বিতর্কিত করার চেষ্টা করে। কিন্তু এই ভণ্ডরাই, এই প্রতারকরাই এর আগে তিনবার জামায়াতের সাথে জোট করে ক্ষমতায় গিয়েছে। নিজেরা ক্ষমতায় যাওয়ার বেলায় হালাল, আর অন্যদের সাথে জোট করলে এখন হয়ে গেছে হারাম। এখন তারা ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে যায়, ইউনিয়নে ইউনিয়নে যায়, উপরে মঞ্চে বসার জন্য নেতার ঠেলাঠেলি কিন্তু সামনে কোনো কর্মী নাই। এজন্য তাদের মাথা নষ্ট হয়ে গেছে।’
আরও পড়ুন:
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি টাকার বস্তা উপজেলায় উপজেলায় যাওয়া শুরু হয়েছে। আমরা প্রশাসনকে স্পষ্ট করে বলতে চাই, এই পঞ্চগড়ের প্রশাসন আপনাদের যদি মেরুদণ্ড থাকে তাহলে সকল দলের সাথে একটি সমান আচরণের মধ্য দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করুন। যদি এটা না থাকে, দয়া করে প্রশাসনের চেয়ারটা ধরে না রেখে এই চেয়ার ছেড়ে নিজের যেটা জায়গা সেই জায়গায় চলে যান। মনে রাখবেন শেষ পতনটা যখন তারা দেখবে তখন তারা ওই ভোটকেন্দ্রে মরণ কামড় দিতে চাইবে। এই কথাটা মাথায় ঢুকায় রাখবেন রক্ত লাগলে রক্ত দিব, জীবন লাগলে জীবন দিব, আমার এই অধিকার একটা ভোট আর কাউকে চুরি করতে দিব না ইনশাআল্লাহ। একটা ভোট যদি চুরি হয় সেই ভোট দিয়ে নতুন করে আরেকটা স্বৈরাচার তৈরি হবে।’
সারজিস বলেন, ‘বিএনপির নেতাকর্মীরা বড় বড় স্বাস্থ্য খাত নিয়ে লেকচার দেয়, চার পাঁচ লাখ টাকা দেয়ার কমিটমেন্ট দেয়ার পরও এখন পর্যন্ত পাঁচটা টাকা এরা দেয়নি। এরা লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদাবাজি করে, চাঁদাবাজি করার পরে কোটি টাকার ব্যানার ফেস্টুন বানায়, কিন্তু এরা হাসপাতালে দেয়ার জন্য পাঁচ টাকার বরাদ্দ রাখে না। তাদের লক্ষ্য হাসপাতাল থেকে কিভাবে ওষুধের টেন্ডার নিবে, কিভাবে খাবারের টেন্ডার নিবে। এদের মিষ্টি কথায় মানুষ আর ভুলবে না। এরা মানুষকে বিদ্যুৎ দিতে চেয়েছিল, বিদ্যুতের পরিবর্তে শুধু খাম্বা দিয়েছিল।’
বিএনপির তথাকথিত স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বেশি অত্যাচার করেছে, নির্যাতন করেছে, জমি দখল করেছে, দোকানপাটে আগুন দিয়েছে, ভাঙচুর করেছে, লুটপাট করেছে, মিথ্যা মামলা দিয়ে টাকা খেয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন সারজিস। তিনি বলেন, ‘এর আগে যখন বিএনপি-জামায়াত জোট বাংলাদেশের ক্ষমতায় গিয়েছিল, তখন আপনারা লুটপাট করলেন। কিন্তু জামায়াতে কোনো লুটপাটের প্রমাণ নেই। আপনাদের যতটুকু মান সম্মান ছিল তাদের জন্যই ছিল।’
পরে তিনি গণভোটে হ্যাঁ ও তার শাপলা কলিতে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান।




