মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অনুরোধ এবং দুই দেশের বন্ধুত্বের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি এই শুল্ক হ্রাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আগামী দিনে ভারত যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি, প্রযুক্তি ও কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন খাতে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি পণ্য ও পরিষেবা কিনবে।
এ ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ বলেন, ‘মেড ইন ইন্ডিয়া পণ্যের ওপর শুল্ক কমে ১৮ শতাংশ হওয়ায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানাই।’
উল্লেখ্য, এর আগে রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপ করেছিল। সেই শুল্কের প্রভাবে ভারতের শেয়ারবাজার ও সামগ্রিক অর্থনীতি চাপের মুখে পড়ে। নতুন করে শুল্ক কমায় ভারতীয় রপ্তানিকারকেরা কিছুটা স্বস্তি পাবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি পূর্ণাঙ্গ কোনো বাণিজ্য চুক্তি নাকি শুধুই সাময়িক শুল্ক সমঝোতা, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। কারণ এখনো ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর ঘোষণা দেয়নি।
ভারত তার মোট চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশ তেল আমদানি করে। ইউক্রেন যুদ্ধের পর তুলনামূলক সস্তা হওয়ায় রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বাড়িয়েছিল দেশটি। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সেই আমদানি ধীরে ধীরে কমছে।
আরও পড়ুন:
এ ঘোষণার কয়েক দিন আগেই ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে একটি বড় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। যেখানে ভারত এবং ২৭টি ইউরোপীয় রাষ্ট্রের ব্লকের মধ্যে প্রায় সমস্ত পণ্যের ওপর কর কমানোর কথা জানানো হয়েছে। এই চুক্তির ফলে ২০৩২ সালের মধ্যে ভারতে ইইউ রপ্তানি দ্বিগুণ হবে বলেও জানানো হয়েছে।
রাশিয়া থেকে ভারতের তেল কেনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অনেকদিন ধরেই দেশটির টানাপোড়েন চলছিল। সে সময় প্রধানমন্ত্রী মোদি যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, ‘সবার আগে দেশের স্বার্থ’।
রাশিয়া থেকে ভারতের তেল কেনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। ভারত নিজ অবস্থানে অটল থাকায় যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় পণ্যে শুল্ক বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন ট্রাম্প। গত বছর পরপর দু’বার ভারতের পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। প্রথমে ভারতসহ একাধিক দেশের পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপানো হয়েছিল। পরে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নিয়ে ফের চাপ বাড়িয়ে ভারতীয় পণ্যে আরও বাড়তি ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপানো হয়।
গত বছর ভারতের পণ্যের ওপর ট্রাম্পের এই কঠোর শুল্ক বৃদ্ধির পর এবার তার শুল্ক কমানোর নতুন ঘোষণাটি ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যে এক উল্লেখযোগ্য মোড় পরিবর্তন।





