ভেনেজুয়েলায় অভিযান চালানোর পর যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড দখল বাসনা এবং ইরানে মার্কিন হামলার শঙ্কা ঘনিভূত হতেই বাড়ছে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা। যার কারণে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার শঙ্কাও প্রকট হচ্ছে। ফলে নিরাপদ বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকছেন ব্যবসায়ীরা। বেছে নিচ্ছেন মূল্যবান ধাতু স্বর্ণ ও রুপাকে। এর ফলে বিশ্ববাজারে লাগামহীন স্বর্ণ-রুপার দর।
বৃহস্পতিবারও স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্সে বেড়েছে ২ দশমিক ১ শতাংশ। এতে মূল্যবান এই ধাতুর দাম বেড়ে ৫ হাজার ৬শ’ ডলার ছুঁই ছুঁই। ইতিহাসে এই রেকর্ডের আগে গত সোমবার প্রথমবারের মতো স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ডলার অতিক্রম করে। সপ্তাহ না ঘুরতেই দাম বেড়েছে ১০ শতাংশের বেশি। এছাড়া চলতি বছরের প্রথম মাসের হিসেবে সোনার দাম বেড়েছে ২৭ শতাংশের বেশি। ২০২৫ সালে দাম বেড়েছিল প্রায় ৬৪ শতাংশ।
আরও পড়ুন:
চলতি বছর ইতোমধ্যেই রুপার দাম ৬০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। ইতিহাসে প্রথমবার প্রায় ১২০ ডলারে পৌঁছেছে রুপার দাম। স্বর্ণ-রুপার দাম বাড়ার পেছনে নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদা এবং মার্কিন ডলারের দুর্বলতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।
স্বর্ণের দামের যতই উত্থান হচ্ছে, বিশ্ববাজারে ততই পতনের মুখে মার্কিন ডলার। ২০২৫ সালে ৯ শতাংশের বেশি দরপতনের পর চলতি বছরও একই ধারা অব্যাহত। যদিও নিজেদের মুদ্রামান চমৎকার অবস্থানে আছে বলে দাবি যুক্তরাষ্ট্রের। এমনকি সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ।
ডলার ছাড়াও বড় ধরনের পতনের কবলে বিশ্বের প্রধান প্রধান শেয়ার বাজারগুলো। বিপরীতে মূল্যবান ধাতুর পাশাপাশি জ্বালানি তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী। বর্তমানে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনায় যা বাড়ছে, বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট ক্রুড মানে এক ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ৬৯ ডলার ছাড়িয়েছে। অর্থাৎ টানা তিনদিন ধরে পর্যায়ক্রমে বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম। ফলে গ্রাহক বা ভোক্তা পর্যায়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।





